শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে

গুণগত মান উন্নয়ন করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে :অর্থমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার বলেছেন, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশকে অবশ্যই সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এসব দুর্ঘটনার অন্তত এক-চতুর্থাংশের বেশি ঘটে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত দুই দশকে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মাথাপিছু সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর হার বেড়েছে গড়ে তিনগুণ।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের যৌথ আয়োজিত সকলের জন্য সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জাতিসংঘে মহাসচিবের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ দূত জন টডের সঙ্গে যৌথভাবে দুই দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন। গতকাল বাংলাদেশ সফরের সমাপ্তিকালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন এবং ইউএন আবাসিক সমন্বয়কারী অ্যাশ টোরকেলসন বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নানামুখী উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কও হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ২১ হাজার কিলোমিটারের মহাসড়ক রয়েছে। এখন প্রয়োজন এগুলোর গুণগত মানে উন্নীত করা। তিনি বলেন, সড়কের গুণগত মান উন্নয়ন করলে দুর্ঘটনাও কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আগামী দশকের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। আমরা নিশ্চিত যে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতায় নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

হার্টউইগ শেফার বলেন, সড়ক নিরাপত্তা সংকট ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা অথবা এইচআইভি-এর মতো রোগের সঙ্গে তুলনাযোগ্য যা বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। শেফার বলেন, বিপুল পরিমাণ মানুষের ক্ষতি ছাড়াও রাস্তার দুর্বল সুরক্ষা একটি দেশের প্রবৃদ্ধি এবং বিকাশকে হ্রাস করতে পারে। তবে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কাজের সময় এখনি। বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ একযোগে সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘে মহাসচিবের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ দূত জন টড বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় তার পরিমাণ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩ থেকে ৫ ভাগের সমান। সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুমৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ। সেইসঙ্গে ৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনার শিকার ১৫-৪৯ বছর বয়সি। অকালমৃত্যু ও আহতের অর্থনৈতিক ও মানব মূল্য অপরিসীম। তবে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে অপার সম্ভাবনা দেখছি এবং উন্নততর সড়ক নিরাপত্তার জন্য একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।

অনুষ্ঠানে ঢাকার সড়ক নিরাপদ করার সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ যৌথভাবে রোড সেফটি চ্যাম্পিয়নস নামের ভিডিও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।