বিনিয়োগ বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর দাবি

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার নেতাদের সাক্ষাত্

 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এর পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ব্যবসা শুরু করা কিংবা চালানোর ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বিনিয়োগ আনতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কমাতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এ ইস্যুটি তুলেছেন। ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থনীতিকে আরো সচল রাখার জন্য বাণিজ্য বিষয়ক সকল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নীতিমালার সংস্কার করা দরকার। এছাড়া প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) দ্রুত গ্যাস, বিদ্যুত্, পানিসহ সব ধরনের সেবার সংযোগ প্রদানের পাশাপাশি বেজা, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিডার সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সূদের হার কমানো, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ব্যবসা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক প্রস্তাবিত কোম্পানি আইনের সংস্কার করার দাবি জানান।

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে (১৭৭তম)। ঐ সূচকে উন্নতি করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বিদ্যমান ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে; কিন্তু প্রত্যাশিত হারে বিনিয়োগ বাড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে হয়রানি ও অবৈধ অর্থ দিতে হয়। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারছে না। বিদ্যমান উদ্যোক্তারা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি একাধিক বড়ো বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে। সানোফির মতো দীর্ঘদিন ধরে এদেশে ব্যবসা করা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও চলে যেতে চাইছে। অন্যদিকে বড়ো বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা যাচাই করলেও নানামুখী কারণে বড়ো আকারের বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৫৮ কোটি ডলার।

ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয় বলে স্বীকার করেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ওয়ান স্টপ সেবা চালু করাসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, রাশেদুল করিম মুন্না, বিডার নির্বাহী সদস্য নভোস চন্দ্র মন্ডলসহ প্রমুখ।