তিন ডাক্তারে চলছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এক্সরে মেশিন নষ্ট, প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ

মো. রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে ২৯ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র তিন জন ডাক্তার দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত চার বছর ধরে এক্সরে নষ্ট, ছয় বছর ধরে প্যাথলজি বন্ধ। নেই কোনো পরিচ্ছন্ন কর্মী। ভাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৫ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি এই হাসপাতালটি নিজেই রুগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসে প্রায় দুই শতাধিক রোগী। একই সঙ্গে হাসপাতালে অসুস্থতার কারণ, বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা এবং মাতৃসেবায় ভর্তি থাকে গড়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী। অথচ এসব রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেখা গেছে, দক্ষকর্মীর অভাবে ও যন্ত্রপাতি অকেজো থাকায় প্যাথলজি বিভাগ প্রায় বন্ধ। তাছাড়া হাসাপাতালের ভেতর ও বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যে পরিচ্ছন্নকর্মী থাকার কথা তাও নেই দীর্ঘদিন যাবত্। হাসপাতালের নিচতলাসহ ওপর তলার ছাদ ও ভিমের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে রোগীদের ওপর। ডজনখানেক জানালার গ্রিল নষ্ট হয়ে খুলে পড়ে গেছে।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, ভাঙ্গা উপজেলার জনগণের জন্য একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙ্গা হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের রোগীর ভিড় হয়। সেবা নিতে আসা রোগীদের ডাক্তার সংকট, প্যাথলজিক্যাল বিভাগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সেবা দিতে পারছি না। আমি ও আমার কর্মরত ডাক্তাররা মিলে নিজস্ব তহবিল থেকে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী ও পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছি। এখানে যদি চাহিদামত সকল ডাক্তার পাওয়া যেত তবে সেবা নিতে আসা রোগীরা তাদের প্রকৃত সেবা পেত।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরে যখন সারাদেশ আতঙ্কিত তখনো প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড়ে তাদের সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছি ডাক্তার সংকটের কারণে। এর মধ্যেও গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৭৫০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।