বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
একটি সেতুর অভাবে যাতায়াত ও উত্পাদিত পণ্য বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বরকলের উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া নামে দুটি গ্রামের হাজারো সাধারণ মানুষ। সরকারি অর্থায়নে উত্তর ভূষণছড়া গ্রামের পাশে পাকা ব্রিজ করা হলে বদলে যেতে পারে ঐ দুটিসহ সংলগ্ন পাঁচ গ্রামের মানুষদের জীবনধারা।
রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত দুইটি গ্রাম উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া। উপজেলার ৪ নম্বর ভূষণছড়া ইউনিয়নের ভূষণছড়া বাজার থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই দুইটি গ্রাম। পাকিস্তান আমলে গড়ে ওঠা এ গ্রাম দুইটিতে প্রায় ১৫০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। কিন্তু এ গ্রাম দুটিতে যেতে হলে ভূষণছড়া বাজার থেকে ছোট্ট ট্রলার বোটযোগে ঘণ্টাখানেক যাওয়ার পর আবার দুর্গম আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হয়। এ গ্রাম দুটির সঙ্গে পাশের গ্রাম পণ্ডিতপাড়া, রকবিব ছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভূষণছড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসতে সমস্যায় পড়তে হয় উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া গ্রামসহ পাঁচ গ্রামের মানুষদের। কারণ উত্তর ভূষণছড়া গ্রাম থেকে ভূষণছড়া বাজারে আসার মাঝখানে জায়গাতে রয়েছে একটি বড়ো ছড়া। ছড়ার ওপর কোনো ব্রিজ কিংবা কাঠের সাঁকো নেই। গ্রামের মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে কোনো রকম যাতায়াত করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
কিন্তু মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় কষ্ট হয় বলে জানালেন উত্তর ভূষণছড়া গ্রামের মুরব্বী নলোকুমার চাকমা। তিনি বলেন, ছড়াটি বর্ষার সময় পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর শুষ্ক মৌসুমে থাকে কাদায় ভরপুর। যার কারণে ঐ দুই গ্রামের মানুষদের যাতায়াতে দুর্ভোগের যেমনি শেষ নেই তেমনি উত্পাদিত পণ্য বাজারজাত করতে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয় গ্রামবাসীর।
ভূষণছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, ব্রিজ বা সাঁকো না থাকায় উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া গ্রাম দুইটির সঙ্গে পাশের গ্রাম পণ্ডিতপাড়া, রকবিবছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রামের মানুষদের সঙ্গে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
এছাড়াও গ্রাম দুটিতে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের ভালো ব্যবস্থা নেই। উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া গ্রাম দুটিতে সরকারি কোনো বিদ্যালয় নেই। সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে হলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ কখনো নৌকায় কখনো হেঁটে আসতে হয়। এতে কচিকাঁচা ছেলেমেয়েদের পক্ষে এতো দূর হেঁটে এসে স্কুলে আসা সম্ভব হয় না। গ্রামে উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পাড়া কেন্দ্র একটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ট্যাংগার পরিচালিত একটি স্কুল গ্রাম দুটিতে করা হয়েছিল। বর্তমানে পাড়া কেন্দ্রটি উন্নয়ন বোর্ড পরিচালনা করলেও কয়েক বছর আগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ট্যাংগার কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। অপরদিকে, গ্রাম দুটিতে রয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। দুই-একটি রিংওয়েল টিউবওয়েল থাকলেও সেগুলো প্রায় সময় থাকে নষ্ট ও অকেজো। ফলে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ঐ গ্রাম দুইটির সাধারণ মানুষ।
ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ মামুন জানান, উত্তর ভূষণছড়া দক্ষিণ ভূষণছড়া ও পণ্ডিতপাড়ার জন্য একটি সেতু খুবই দরকার। ঐসব গ্রামের মানুষ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও তাদের উত্পাদিত মালামালগুলো সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে গ্রামের চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে উপজেলা পরিষদে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট আর প্রস্থ ২০ ফুট হতে পারে। জনস্বার্থে ব্রিজটি এলজিইডি থেকে করা যায় কি না চেষ্টা করা হবে। তা না হলে জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা নিতে হবে বলে জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।