মানিকছড়িতে অনিয়মের অভিযোগে স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার বাতিল

উপজেলা প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এলজিইডির একটি স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অদক্ষতা এবং কর্তব্যকর্মে অবহেলার দায়ে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— এ মর্মে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলীকে। রবিবার পৃথক দুইটি চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ আদেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাহিদাভিত্তিক জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় মানিকছড়ির চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য গত ২৫ মে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকায় ই-জিপি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকৌশলী। দরপত্রে প্রথম মূল্যায়নে ২৪ জনকে রেসপনসিভ করে ই-জিপি প্রক্রিয়ায় লটারিতে মেসার্স চৌধুরি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম বিজয়ী হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাকেম নেওয়াজ চৌধুরি অভিযোগ করেন, মানিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী লটারিতে প্রথম বিজয়ী হিসেবে তাকে সার্টিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড না দিয়ে আল আমিন ট্রেডার্স নামে খাগড়াছড়ি সদরের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেন।

এ ব্যাপারে রাকেম নেওয়াজ চৌধুরি স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে গত ২৩ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেশ করেন। এর প্রেক্ষিতে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে রাঙ্গামাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গত ২৫ জুলাই নির্বাহী প্রকৌশলী চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে রাঙ্গামাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মিজানুর রহমান গত ৪ আগস্ট তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (বাস্তবায়ন) কাছে জমা দেন।

এ ব্যাপারে জানতে মানিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও কথা বলা যায়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মানিকছড়ির উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ঐ টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অনিয়ম, অদক্ষতা ও গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীকে শোকজ করা হয়েছে।