বর্ষণমুখর ফাইনাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফাইনালে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান খেলবেন কি খেলবেন না, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা ছিল। না খেললে আফগানিস্তানের কতটা লাভ, বাংলাদেশের কতটা লাভ, তা নিয়ে তর্কবিতর্ক ছিল। বাংলাদেশ অষ্টমবারের মতো কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ছুঁতে পারবে কি না, তা নিয়ে ছিল প্রতিক্ষা!

কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল গড়াতে সেসব নিয়ে আলোচনার আর কোনো সুযোগই পাওয়া গেল না। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি চলল তো চললই, রাত ৮টা নাগাদও সেই বৃষ্টি থামার কোনো নাম-গন্ধ খুঁজে পাওয়া গেল না। ম্যাচের ভাগ্যও তাই ঝুলে গেল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ফাইনাল দেখার জন্য অবশ্য দর্শকদের উত্সাহের কোনো কমতি ছিল না। দুপুর থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে হাজির হতে থাকে উত্সাহী সমর্থকেরা। কারো হাতে প্ল্যাকার্ড, কারো হাতে পতাকা। রীতিমতো উত্সবমুখর এক পরিবেশ। কে জানত, এই উত্সবটা মাটি করে দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল প্রকৃতি!

প্রকৃতির বাধা আসার আগ পর্যন্ত অবশ্য এই উত্সবের রঙে কালোবাজারিদের আনাগোনাও ছিল বিস্তর। সাধারণ ১০০ টাকার টিকিট কেউ ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছে—এমন অভিযোগও পাওয়া গেল। তাতেও অবশ্য দর্শকদের কোনো ‘না’ ছিল না। কিন্তু সাকিব-মুশফিকদের ব্যাটিং-বোলিংয়ের ঝলক দেখার আশায় স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছিল দর্শকে।

রাজধানীতে গতকাল সকাল থেকেই মেঘের আনাগোনা ছিল। বৃষ্টি যে হবে, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল। মিরপুরে বিকাল গড়াতেই বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি চলে একনাগাড়ে। যথারীতি উইকেটে কভার দেওয়াই ছিল। রাত ৮টা নাগাদ বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় কভার সরানোরও কোনো উপায় মিলল না। দুই দলের খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিশিয়াল সবাই সময়মতোই মাঠে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টির দাপটে কেউ মাঠে নামারও কোনো সুযোগ পাননি। কে জানত, ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের বড়ো অংশ একটা এভাবে অলস সময় কাটাতে হবে!