মাছ ধরতে পারছেন না মত্স্যজীবীরা প্রভাবশালীদের বাধা

বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা

বিশ্বনাথে গুনিয়া খাল উন্মুক্ত থাকলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বাধায় মত্স্যজীবীরা খালে মাছ ধরতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে উপজেলার প্রতাবপুর ও মাখরগাঁও গ্রামের লোকজনদের সাথে আমতৈল গ্রামের মত্স্যজীবীদের বিরোধ চলে আসছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার মদনপুর মৌজায় অবস্থিত লামাকাজী ইউনিয়নের মাখরগাঁও ও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত গুনিয়া খাল। খালের দুপাশে রয়েছে দুটি হাওর। স্থানীয় জনসাধারণের পানি নিষ্কাশন ও পার্শ্ববর্তী হাওরের কৃষি কাজের প্রয়োজন থাকায় খালটি বড়ো হলেও বন্দোবস্তের বহির্ভূত হিসেবে রেকর্ড বিদ্যমান। ফলে এই খাল কখনো জলমহালের তালিকাভুক্ত হয়নি। বর্ষা মৌসুমে খালটি পানিতে ভরে গেলে স্থানীয় (মাখরগাঁও ও প্রতাবপুর গ্রামের) লোকজন মত্স্যজীবীর কাছে ভেলজাল বিক্রি করেন এবং শুকনো মৌসুমে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করেন। খালটি উন্মুক্ত থাকলেও মাখরগাঁও ও প্রতাবপুর গ্রামের লোকজনের বাধার কারণে পার্শ্ববর্তী আমতৈল গ্রামের প্রকৃত মত্স্যজীবীরা খালে মাছ ধরতে পারেন না। এমন অভিযোগে গত ৩ জুলাই প্রতাবপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সহিদ মিয়া, মাখরগাঁও গ্রামের দুদু মিয়া, রইছ আলী ও সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন মত্স্যজীবীরা। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, উক্ত ব্যক্তিরা সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে অমত্স্যজীবী দ্বারা মাছ আহরণ করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাত্ করছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান ‘জাল যার জলা তার’ নীতির আলোকে সরকারি রাজস্বের বিনিময়ে গুনিয়া খালটি প্রকৃত মত্স্যজীবীদের অনুকূলে বন্দোবস্ত দিতে সরকারের প্রতি জোরদাবি জানান মত্স্যজীবীরা। তবে অভিযুক্তরা জানান, মাখরগাঁও ও প্রতাবপুরসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গ্রামের লোকজন হাওরে কৃষি কাজের জন্য শুকনো মৌসুমে খালে বাঁধ দিয়ে পানি জমা করে সেচ কাজে ব্যবহার করেন। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মত্স্যজীবীর কাছে তারা ভেলজাল বিক্রি করেন এবং বিক্রির টাকা খালে বাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যয় করেন।