হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র

অ্যালুমিনিয়াম আর প্লাস্টিক দ্রব্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পাল সম্প্রদায়ের লোকজন ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক জাত পেশা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছেড়ে দিচ্ছেন। তাদের মাটির তৈরি ব্যবহারিক তৈজসপত্র আর আগের মতো বিক্রি হয় না। নদী থেকে এঁটেল মাটি তোলে বিভিন্ন প্রকার হাঁড়িপাতিল তৈরি করে তা নদীপথেই বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে বিক্রি করতেন তারা। আর এজন্যই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠে তাদের বসতি। সাটুরিয়ার গাজীখালী নদীর অববাহিকায় তেমনি গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে গাজীখালীর মুখে বিশাল চর পড়ায় এখন ভরা মৌসুমেও একফোঁটা নদীর পানিও প্রবাহিত হয় না এই গাজীখালী নদীতে। তারই বিরূপ প্রভাব পড়েছে পাল সম্প্রদায়ের ওপর। পাওয়া যাচ্ছে না উপযুক্ত এঁটেল মাটি। নৌ যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় এ শিল্পের কাঁচামাল এঁটেল মাটি ও তৈরি করা মালামাল গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর খরচও বেড়ে গেছে বহুগুণ। ফলে এরই মাঝে ঢুকে পড়েছে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম দ্রব্যাদি।

এই উপজেলায় এক সময় কয়েক হাজার পাল পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত ছিল। নানা প্রতিকূলতা আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ইতিমধ্যে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। উপজেলার কাওন্নারার পালপাড়া গ্রামের পালরা  বলেন, বর্তমানে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাটির হাঁড়িপাতিলের চাহিদা কমে গেছে। যারা বৃদ্ধ এবং অন্য কোনো কাজ শিখে নাই শুধু তারাই বাধ্য হয়ে এখনো এ পেশায় আছে। তারা আরো বলেন, আগে নদীপথে এঁটেল মাটি আনতাম হাঁড়িপাতিল তৈরি করে নদীপথেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতাম। হাড়িপাতিল পোড়ানোর জন্য সহজেই জ্বালানি পেতাম, কোনো খরচ লাগতো না। এখন সব কিছুই চড়া দামে কিনে আনতে হয়। একদিকে খরচ বেড়ে গেছে অন্য দিকে এ সবের চাহিদাও আগের তুলনায় কমে গেছে। তারা গাজীখালী নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন।