খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক। ব্যাংকটির ঋণ পরিশোধ না করে ঘুরে বেড়ানো ব্যবসায়ীরাই এর প্রথম টার্গেট বলে জানিয়েছে ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। সেই আলোকে খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ব্যাংকটির খেলাপি গ্রহীতা এরশাদ ব্রাদার্সের কাছে পাওনা রয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। এর মালিকের অফিস বাংলামোটর এবং বাসা ধানমন্ডিতে। রাজশাহীর ঠিকানাও রয়েছে ব্যাংকের ফাইলে। সেই অনুযায়ী এবি ব্যাংক এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে এন আই অ্যাক্টের অধীনে একটি মামলা দায়ের করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে সম্প্রতি ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের কাছে এবি ব্যাংকের ১৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাউথ বাংলার ৮৩ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংকে ১৫ কোটি, ফিনিক্স ফিন্যান্সে ২৯ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৬ কোটি টাকা। সব ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ গ্রাহক এরশাদ আলী। রড, সিমেন্ট ও টাইলসের ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন তিনি।
এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রুহুল আমিন জানান, সোমবার রাত দুটোর দিকে তার ধানমন্ডির বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু তাকে ধরা যায়নি। ২০১০ সালে এবি ব্যাংক থেকে তিনি ১১ কোটি টাকা নেন। ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৯ কোটিতে। যা ২০১৭ সালেই খেলাপি হয়ে যায়। ২০১৮ সালে নতুন ম্যানেজার দায়িত্বে আসার পর নতুন করে অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। বকেয়া টাকা চাইলে আরো অর্থায়ন দাবি করে ব্যবসায় লোকসানের অজুহাত ছিল এরশাদ আলীর। পরে ব্যাংক টাকা আদায়ে মামলার দ্বারস্থ হয়।