দেবী দুর্গা নানা বর্ণে সাজছেন শিল্পীর তুলিতে

 

পাবনায় পূজামণ্ডপগুলোতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পুরোদমে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দিনরাতের বেশি সময় প্রতিমা শিল্পীরা কাজ করছেন। এবারের উৎসব ঘিরে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসন সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা বলেছেন। উৎসব সফল ভাবে শেষ করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন মণ্ডপের আয়োজক ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারাও। তাদের বক্তব্য, উৎসব নির্বিঘ্নে শেষ করতে মণ্ডপগুলোতে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন।

ঘুরে দেখা গেল, খড় আর কাঁচামাটির প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে কোন কোন মণ্ডপে। কোন মণ্ডপে রঙের কাজ শুরু হয়েছে। দেবী দুর্গা নানা বর্ণে সাজছেন শিল্পীর রং-তুলির আঁচড়ে। তবে অসুর নাশিনীর দেবী দুর্গাকে নানা রঙে রাঙালেও প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য পারিশ্রমিক মিলছে না তাদের। এজন্য অনেক প্রতিমা শিল্পীর মুখ ভার। প্রতিমা শিল্পী ধনু পাল ও বিনয় পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড় ও সুতলি-রঙের দাম বেড়ে গেছে। আগের মতো প্রতিমা তৈরি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

ধনু পাল দুঃখ করে বললেন, সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য আবেদনময়ী প্রাণের আবাহন সৃষ্টি করা প্রতিমা তৈরি করতে অনেক সময় লাগে এবং কষ্ট হয় তাদের। এখন তাদের টানা আঠারো থেকে কুড়ি ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু তারা বাজার মূল্যের সঙ্গে পেরে উঠছেন না। তিনি বলেন, বাড়েনি তাদের কষ্ট আর ঘামের মজুরি। এসব শিল্পীরা পূজা সংশ্লিষ্টদের কাছে মজুির বাড়ানো বা প্রতিমার দাম বাড়ানোর তাগিদ দিলেও তারা কোন বিবেচনা করছেন না।

পাবনার জয়কালীবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চাকী বলেন, পাবনায় প্রতি বছর সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সনাতন ধর্মালম্বীদের এই বৃহৎ উৎসব সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়। তিনি বলেন, শহরের ৩৪টি মণ্ডপসহ জেলার সকল উপজেলাতে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা পালিত হবে।

পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বাদল ঘোষ বলেন, পূজা সফল করতে প্রশাসনসহ সকল মহলের সহযোগিতা বিগত সময়গুলোর মতোই অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা তাদের। এদিকে শহরে লক্ষ করা গেছে, বিভিন্ন সড়কে বড় বড় তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে। নারী-পুরুষ অনেকেই পূজার কেনা-কাটাসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎসবের আমেজ এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি পরিবারে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজাতে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় করে তুলতে সকল মণ্ডপে পুলিশ থাকবে, পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিয়োজিত থাকবে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও কয়েকটি পূজামণ্ডপ মিলে ভাগ করে করে মোবাইল টিম থাকবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি