ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজাকে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদপুর ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রবিউল ইসলাম বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামিকে অফিস চলাকালে গত ১৯মে রবিবার মারধর করে আকরামুজ্জামান রাজা ও তার সহযোগীরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলো আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু। তারা এ সময় অফিসের আরও তিনজন কর্মচারীকে মারপিট করে

এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় সমরজিত ঘরামী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় এনামুল হক অপুকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তিনি জামিন নিয়ে বেড়িয়ে আসেন। কিন্তু রাজা জামিন না নেওয়ায় পুলিশ তাকে পুরাতন পৌরসভার সামনে থেকে সন্ধ্যার আগে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা পেশায় ঠিকাদারি ব্যবসায়ী। ব্যবসার সুবাদে ভাঙ্গার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এবং নড়াইলে একটি বড় ঠিকাদারি কাজ করার সময় কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। যশোর নড়াইলে একটি ২০ কোটি টাকার কাজের ১৮টি পারফর্মেন্সে সিকিউরিটি ব্যাংক ভাঙ্গা শাখা, অগ্রণী ব্যাংক ভাঙ্গা শাখা ও স্টান্ডার্ড ব্যাংক ফরিদপুর শাখা হতে জাল কাগজপত্র দাখিল করে কাজ নেয়। বিষয়টি যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে মামলার প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া ভাঙ্গা বাজারের মের্সাস সুইট টের্ডাস তার নামে ফরিদপুর আদালতে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দুইটি চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। তাছাড়া ভাঙ্গা থানায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে গত রবিবার উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীসহ ৩ জন অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত ও ভাংচুরের ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: কালিহাতীতে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

মামলার বাদী জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী বলেন, 'আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা রবিবার অফিসে এসে আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ করে। আমি এখানে আমার পরিবার পরিজন রেখে সরকারের দায়িত্ব পালন করি। তারা বর্তমান সরকারী দলের নেতা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ও নিজেকে সামাল দিয়ে কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের পরামর্শে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে আমি মনে করি।'

ইত্তেফাক/নূহু