দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
বৃষ্টিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ভেসে যাওয়াতে দুই দেশের অধিনায়কের আফসোসের শেষ নেই।
দুই অধিনায়কের আফসোসটা খেলা না হওয়ার। কিন্তু তাদের চেয়ে অনেক বেশি আফসোস যে হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টি মাথায় করে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তাদের। বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে অপেক্ষা করেছেন খেলার জন্য। কিন্তু খেলা তো দূরে থাক, টসটা পর্যন্ত দেখতে পাননি তারা। এই মানুষগুলোর জন্য কোনো সান্ত্বনাই যথেষ্ট না। তারপরও তাদের ছোটো একটা প্রাপ্তি হতে পারতো টিকিটের টাকা ফের পাওয়া। সেটাও হয়নি। কারণ, টিকিটের পেছনে পরিষ্কার লেখা ছিল, এই টিকিটের টাকা কোনো কারণেই ফেরতযোগ্য নয়।
কিন্তু কেনো ফেরতযোগ্য নয় এই টাকা?
আইসিসি যখন কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, সেখানে ম্যাচের যদি একটি বলও মাঠে না গড়ায় দর্শক টাকা ফেরত পান। এমনকি ভারতে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, তাদের দেশে আয়োজিত সিরিজ বা টুর্নামেন্টেও খেলা একেবারেই না হলে দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তাহলে বিসিবি কেনো এরকম একটা আয়োজনে এই টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ রাখেনি?
এ ব্যাপারে মন্তব্য করার জন্য বিসিবির কোনো বড়ো কর্মকর্তাকে পাওয়া গেল না। তবে একজন দায়িত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, বাংলাদেশে টিকিট বিক্রির যে ব্যবস্থা বিদ্যমান, তাতে টাকা ফেরত দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি তার যুক্তিতে বলছিলেন, ‘আইসিসি ফেরত দেয় এটা জানি। অন্য কোনো দেশ এরকম ক্ষেত্রে কী করে, আমার ঠিক জানা নেই। তবে টাকা ফেরত দিতে গেলে টিকিট বিক্রির একটা রশিদ থাকা দরকার হয়। আমরা চল্লিশ শতাংশ টিকিট সৌজন্য হিসেবে দিয়ে দেই। বাকী যে টিকিট ব্যাংকের মাধ্যমে বা অনলাইনে বিক্রি হয়, সেখানেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দর্শকের নামে টিকিট ইস্যু করা হয় না। ফলে ফেরত দেওয়াটা একটা জটিল প্রক্রিয়া।’
তবে এই কর্মকর্তা একটা আশার কথা শোনালেন। তিনি বললেন, এখন যেহেতু দিনকে দিন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে এরকম ম্যাচে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টা আলোচনায় তুলবেন। এতোদিন এ নিয়ে কখনো আলোচনা হয়নি বলেই পথ তৈরি হয়নি বলে এই কর্মকর্তার ধারণা।
যদি ভবিষ্যতে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার আইন তৈরি হয়, সেটাই হবে খেলোয়াড়দেরও সহানুভূতির সাথে মানানসই ব্যাপার। গতকাল ম্যাচে দর্শকের যে হতাশা, সেটা ছুয়ে গিয়েছিল খেলোয়াড়দেরও। বিশেষ করে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ম্যাচশেষে বলছিলেন, দর্শকের হতাশায় তারাও কষ্ট পেয়েছেন।
সাকিব বলছিলেন, ‘দর্শকদের জন্য এটি খুবই হতাশার। দারুণ একটি লড়াই দেখার জন্য অনেক আশা নিয়ে এসেছিল তারা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বৃষ্টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ফাইনালের আগে আমরা বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি, ফাইনাল ম্যাচটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়, খেলতে না পারায় দুই দলই হতাশ।’ পরে সংবাদ সম্মেলনে আসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলছিলেন, মাঠে ভিজতে থাকা বাচ্চাদের দেখে তারা খুবই কষ্ট পেয়েছেন, ‘আমরা যখন ড্রেসিং রুমে বসে ছিলাম, বৃষ্টি পড়ছিল। আমি দেখছিলাম যে কিছু ছোটো ছোটো বাচ্চা বৃষ্টিতে ভিজছে। তখন একটু আফসোস লাগছিল যে ম্যাচটি হলে ভালো হতো এবং ওরা বৃষ্টিতে ভিজতো না। বাচ্চাদের জন্য খারাপ লাগছিল যে ওরা অনেক আশা করে এসেছে। আরো অনেকে আশা করে এসেছিল। ম্যাচটি হয়নি এর জন্য আসলে আফসোসটি বেশি।’