অনুদানের অর্থ প্রদানে ইএফটির ব্যবহার

দেশ ডিজিটাল হইয়া উঠিতেছে। একে একে সকল খাতেই অনলাইন ব্যবস্থা চালু হইতেছে। এই সুবিধা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগ করিবে, ইহাই কাম্য। আমদানি রপ্তানি, ব্যাংকিং হইতে শুরু করিয়া টেন্ডার সর্বত্রই দিনে দিনে অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু হইতেছে। তাহা হইলে সরকারের অনুদানের অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আর অ্যানালগ ব্যবস্থা থাকিবে কেন? বেসামরিক প্রশাসনে চাকুরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হইলে তাহার পরিবারের সদস্যরা ৮ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান পাইয়া থাকেন এবং গুরুতর জখম হইয়া কেহ স্থায়ীভাবে অক্ষম হইলে তাহার পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হইয়া থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই অর্থের চেক পাইতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাইতে হয়। জেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরিতে হয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই চেক পাওয়াও সম্ভব হইয়া উঠে না। ২০১৮-১৯ অর্থবত্সরে এই ধরনের ৪৫টি চেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসিয়াছে। সহযোগী একটি দৈনিকের রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, এই ধরনের হয়রানি বন্ধ করিতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিতে উদ্যোগ লইয়াছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই নূতন ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেদন গৃহীত হইলে চেক ইস্যু করিবার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে অনুদানের অর্থ দেওয়া হইবে। অর্থাত্ চেকের বদলে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ চলিয়া যাইবে। জানা গিয়াছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইহা প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিয়াছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুন হইতে সরকার এই অনুদানের অর্থ দিয়া আসিতেছে।

অবশ্যই ইহা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনলাইন কার্যক্রম বিস্তৃত করিবার সদিচ্ছাও বটে। গত বত্সর ২৫৯ কর্মকতার জন্য সরকার ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করিয়াছে। এই ব্যবস্থা জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। অনলাইন হইলে আর এই বিড়ম্বনা থাকিবে না ভুক্তভোগীদের। তবে আমরা অনলাইন কার্যক্রমে, বিশেষ করিয়া অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছু কারচুপির ঘটনা দেখিতে পাই। বিগত দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে টাকা খোয়া গিয়াছে, এটিএম বুথ হইতে টাকা খোয়া গিয়াছে। এমনকি ব্যাংকিং অনলাইন ব্যবস্থাও অনেক গ্রাহককে নানা সমস্যা পোহাইতে হইতেছে। সেই ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে। তাহা না হইলে উদ্যোগটির সুফল পাওয়া যাইবে না। মনে রাখিতে হইবে যে, এই অর্থ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একজন মানুষের মৃত্যুর কারণে অথবা সম্পূর্ণ অক্ষম হওয়ার কারণে পরিবার এই অর্থ পাইয়া থাকে। সুতরাং কোনোক্রমেই ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে যেন গাফিলতি না থাকে, সেই দিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি রাখিতে হইবে। প্রয়োজন হইবে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এতত্সংক্রান্ত কাজে অনলাইন এক্সপার্ট রাখিয়া তাহাদের মাধ্যমে ফ্রান্ড ট্রান্সফার করিতে হইবে।