নানা সংকটে সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই মাসের বেতনভাতা বকেয়া

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি ওষুধ ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে রোগীরা আর আগের মতো আস্থা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই মাসের বেতনভাতা বকেয়া পড়েছে।

জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া জেলায় এ রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পাবনা, মুন্সিগঞ্জ, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, ফেনীসহ ৩২টি জেলা ফাইলেরিয়া অধ্যুষিত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের ফাইলেরিয়াল প্যারাসাইট বা পরজীবী শরীরে প্রবেশ করলে এ রোগের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরজীবী একজন রোগী হতে আরেকজন সুস্থ লোকের শরীরে কয়েক প্রজাতির মশার কামড়ে সংক্রামিত হয়।

এ রোগ নির্মূলে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশের একমাত্র ‘ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলজি অব বাংলাদেশ’ (আইএসিআইবি)। এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাপান সরকারের অর্থায়নে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছে একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

২০০৩ সাল থেকে হাসপাতালটিতে আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ, প্যাথলজিক্যাল, পরীক্ষা, এক্সরে, হার্নিয়াসহ বিবিধ জটিল রোগের অপারেশনসহ আধুনিক সেবা, স্যাটেলাইট ক্লিনিক মোবাইল হাইড্রোসিল অপারেশন ক্যাম্প ও অন্যান্য চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সিমাভি নেদারল্যান্ডের আর্থিক সহায়তায় নির্মিতব্য ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রদর্শন ও ফাইলেরিয়া অধ্যুষিত এলাকায় ভিডিও চিত্র প্রদর্শন হয়ে থাকে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত আউটডোরে মোট ৫০ হাজার ৩৩ জন রোগী চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করেন। বর্তমানে হাসপাতালটি রোগীদের টোকেন ফি ও অ্যাম্বুলেন্সের আয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের দুই মাসের বেতনভাতা বকেয়া পড়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুরত আলী জানান, স্থানীয় লোকের সাহায্য-সহযোগিতা, হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীদের সেবার মাধ্যমে অর্জিত উপার্জনে হাসপাতালের ওষুধ কেনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি সুযোগসুবিধা ছাড়া হাসপাতালটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।