বরফের রাজ্য উত্তরমেরুতে হাড়জমানো ঠান্ডা। তবু এ বছরের গ্রীষ্মে উত্তর মহাসাগরের ওপরে ভেসে থাকা বরফের সাম্রাজ্য আগের তুলনায় আকার-আয়তনে অনেকটাই ছোটো হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বরফ গলতে গলতে আর্কটিকের পানির ওপরে থাকা বরফের স্তুরের সাম্রাজ্য এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ১৬ লাখ বর্গমাইল এলাকার বরফ গলে গেছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১২ সালে সাইক্লোনের কারণে সবচেয়ে বেশি কমেছিল উত্তরমেরুর বরফ। নাসা ও ‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’ (এনএসআইডিসি)-এর বিভিন্ন উপগ্রহের পাঠানো তথ্যে এ কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
সাধারণত শীতে আর্কটিক মহাসাগরের ওপরে বরফের স্তর জমে; কিন্তু এ বছর তেমনটা হয়নি। এখন ভরা শীতেও আর্কটিক মহাসাগরের ওপরের বরফের স্তর দ্রুত পাতলা হয়ে যাচ্ছে। আর্কটিকের ওপরের পানির স্তরকে আর জমিয়ে দিয়ে বরফে পরিণত করতে পারছে না! এ কারণে উত্তরোত্তর ছোটো হয়ে আসছে আর্কটিক মহাসাগরের ওপরে ভেসে বেড়ানো বরফের ‘সাম্রাজ্য’। বরফের সাম্রাজ্যে আরো ফাটল দেখা দিচ্ছে। শীতে আগের মতো বরফ জমছে না বলে সেই ফাটল দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। তাতে বরফের পুরুস্তরকে ফাটিয়ে নিচে থাকা আর্কটিক মহাসাগরের পানি উঠে আসছে ওপরের দিকে।
এর ফলে খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে ঐ এলাকার যাবতীয় বাস্তুতন্ত্র। বদলে যাচ্ছে আশপাশে থাকা অন্য সাগর ও মহাসাগরগুলোর গতিবিধি, চালচলনও। অতলান্তিকের মতো মহাসাগরের পানির স্তর অনেকটা ওপরে উঠে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তনেও বড়ো ভূমিকা নিচ্ছে আর্কটিক মহাসাগরের ওপরের ক্ষীয়মাণ বরফের স্তর। নাসার গর্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার পারকিনসন একটি গবেষণাপত্রেও এমন কথাই লিখেছেন।
নাসা এবং এনএসআইডিসির সাম্প্রতিক তথ্য জানিয়েছে, এই বছর গরমকাল শুরু হওয়ার সময়েই আর্কটিকের ওপরের বরফের স্তরের এলাকা আগের চেয়ে অনেকটাই ছোটো হয়ে গিয়েছিল। যেটুকু ছিল, জুলাইয়ে তা খুব দ্রুত হারে গলতে শুরু করেছিল। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে তার হার অবশ্য কিছুটা কমে। মহাকাশ থেকে বিভিন্ন উপগ্রহের মাধ্যমে আর্কটিকের ওপরের সেই বরফের স্তরের হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল। —আনন্দবাজার