ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার। এক বছরের মাথায় হয়ে গেলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক। এর পরের বছর সহকারী অধ্যাপক। প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক হওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, এর বেশিরভাগই পূরণ হয় না তার। এর পরও শুধু উপাচার্য চাচা থাকায় চাকরি-পদোন্নতি সবই মেলে। এই শিক্ষকের নাম খন্দকার মাহমুদ পারভেজ। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের ভাতিজা খন্দকার মাহমুদ পারভেজ ২০১৬ সালের ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে আবেদন করেন। তার আবেদনপত্রে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ২০১০ সালে স্নাতকে (সম্মান) পেয়েছেন দ্বিতীয় শ্রেণি, যাতে তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। ২০১১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, সেখানে ছিল দ্বিতীয় শ্রেণি। প্রাপ্ত নম্বর শতকরা ৪৮ শতাংশ। তার এসএসএসি ও এইচএসসি কোনোটাতেই জিপিএ-৫ নেই।
এই ফলাফল নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পান। এক বছর চাকরি করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে ২০১৭ সালের জুন মাসে যোগদান করেন। এর ঠিক এক বছর পর ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে খন্দকার মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘রবীন্দ্র গবেষণা জার্নালে আমার একাধিক গবেষণাকর্ম প্রকাশিত হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় আমার এই অভিজ্ঞতা দেখে আমাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে।’তবে নওগাঁ থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্র গবেষণা জার্নালের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জানা যায়, পর্যাপ্ত টাকা দিলেই যেকোনো লেখা এই জার্নাল থেকে বের করা সম্ভব।