দিরাইয়ে হাওরে নৌকা ডুবে ১০ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কালিয়াকুঠা হাওরে নৌকাডুবিতে চার শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রফিনগরের মাছিমপুর থেকে নৌকাটি চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামে যাচ্ছিল। এ সময় হাওরে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

নিহতরা হলো মাছিমপুরের বাবুল মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া, বদরুল মিয়ার ছেলে আবির মিয়া, জমশেদ আলীর মেয়ে শান্তা, আরজ আলীর মেয়ে তাসলিমা, স্ত্রী রুহিতুন্নেছা, আফজাল মিয়ার ছেলে সোহান মিয়া, স্ত্রী আজিজুন্নেসা, পেরুয়ার ফিরোজ মিয়ার ছেলে শহীদুল মিয়া ও নজিব উল্লাহর স্ত্রী করিমা এবং নোয়ারচরের আফজাল মিয়ার ছেলে আসাদ।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার পেরুয়া গ্রামে ফিরোজ আলীর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। মূলত সেখানে যাওয়ার জন্য এক দিন আগে রওনা হয় মাছিমপুরে থাকা ফিরোজ আলীর স্বজনেরা। সেখানে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কুটি মিয়া জানান, নৌকাডুবির পরপর মানুষের চিত্কার শুনে তারা কয়েকটি ছোটো নৌকা নিয়ে সেখানে যান। কিন্তু তখন ঝড়-বৃষ্টি থাকায় ঠিকমতো উদ্ধারকাজ চালাতে পারেননি। রাত ১০টা পর্যন্ত হাওর থেকে চার শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সকালে আবার গ্রামবাসী হাওরে গিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালায়। পরে আরো ছয়টি লাশ উদ্ধার হয়।

রফিনগর ইউপির চেয়ারম্যান রেজওয়ান খান বলেন, নৌকায় ৩১ জন যাত্রী ছিল। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠলেও ১০ জন নিখোঁজ ছিলো। এই ১০ জনের মধ্যে সবারই লাশ উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, মাছিমপুর থেকে প্রতিদিনই নৌকায় করে যাত্রীরা পেরুয়া এলাকায় যায়। একইভাবে যাত্রী নিয়ে নৌকাটি রওনা হয়েছিল। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেনি। ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত একজন নিখোঁজ ছিল। পরে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।