গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার কার্যক্রমে জড়িত থাকার অপরাধে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট শাহানুর মিয়া গ্রেফতারের পর এরা আতঙ্কের ভেতর আছেন। গত সোমবার নির্বাচন ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শাহানুরকে গ্রেফতার করে। বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অপচেষ্টায় ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এনআইডি উইং এবং নির্বাচন ভবনের কারো কারো যোগসাজশ রয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করার সঙ্গে ইসির ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্বার্থে আমরা এখনই তাদের নাম প্রকাশ করছি না। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অপরাধে নির্বাচন কমিশনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদেরকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের একার পক্ষে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায় থেকে এ পর্যন্ত চার জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে মিয়ানমার থেকে আসা ৬১ জন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অপচেষ্টা করে। যাদের তথ্য লোকাল সার্ভারে অন্তর্ভুক্তও করা হয়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা নিবন্ধন কর্মকর্তার অগোচরে এই অপকর্মটি করেন। যদিও কোথাও কোথাও কর্মকর্তারাও এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় ‘অন্তর্ভুক্ত’ হওয়ার খবর প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের বিশেষ তদন্ত কমিটি যে তথ্য পেয়েছে, সেটা হলো—শুক্র ও শনিবার ভোটার করে নেওয়ার সরঞ্জাম (মডেম ও সিগনেচার প্যাড) বাড়িতে নিয়ে গিয়ে এই অপকর্মটি করতেন কর্মচারীরা। অথচ মডেম থাকার কথা নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে ও তার অফিসে।