বৃষ্টি-খরা, হামলা, হুমকি-ধমকি, খাওয়ার কষ্ট সবকিছু উপেক্ষা করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে সপ্তম দিনের মতো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। অনেক শিক্ষার্থীই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদিকে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত করার জন্য গতকাল বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ করে।
গতকাল যথারীতি ভিসিবিরোধী স্ল্লোগানে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিকূল আবহাওয়া, সকাল থেকেই বৃষ্টি সবকিছু যেন তুচ্ছ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সামনে। হলের খাবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ক্যাম্পাসের সামনের হোটেলগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে। খাবার না পেয়ে পাউরুটি, কলা কখনো শুকনা মরিচ গুঁড়া করে সাদা ভাতের সঙ্গে খেয়ে নিয়েই আন্দোলনে নেমে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে মিডিয়াতে ভিসির অসংলগ্ন বক্তব্যের প্রতিবাদে আন্দোলন আরো জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবারে প্রচারিত ঐ বক্তব্যের প্রথমেই দেখা যাচ্ছে, ভিসি সাংবাদিকদের বলছেন, আপনারা এগুলো যদি কাভার না করেন তাহলে দুই ঘণ্টায় সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। সাংবাদিক ভাইরা আমার সঙ্গে বসেন, আপনারা এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না, ৫ মিনিটেই সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া তিনি ঐ বক্তব্যে আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নামে রাতভর অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, ক্যাম্পাসে অছাত্র এসে রাত কাটাচ্ছে।
ভিসির এ বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পরে ছাত্রী হলের সামনে থেকে একটি ঝাড়ু মিছিল বের করা হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় ঝাড়ু মিছিলটি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রেহনুমা তাবাসসুম ঐশি এ বিষয়ে বলেন, ভিসির দুর্নীতির চিত্র এবং তার মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে। এখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আন্দোলনকারীদের দোষারোপের অপচেষ্টা করছেন। আন্দোলনের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন, আমাদের শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অনেকবার কথা বলতে গেলেও তারা কথা না বলে অপমান করেছে।