গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অনুমোদন চেয়ে গ্যাসের লোড বৃদ্ধি করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক এমডিসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. মনজুর আলম ও উপসহকারী পরিচালক মো. শাজাহান মিরাজের প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে কমিশন এ মামলার অনুমোদন দেয়। এ মামলার আসামি হচ্ছেন—তিতাসের সাবেক এমডি মীর মসিউর রহমান, গাজীপুর আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপক ছাব্বের আহমেদ চৌধুরী (বর্তমানে পাইপলাইন ডিজাইন বিভাগের ব্যবস্থাপক), তার স্ত্রী ওয়াস্ট কেম ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক রুমানা রিসাত জামান এবং তিতাসের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসবি কনসট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে ছাব্বের আহমেদ চৌধুরী ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মীর মসিউর রহমান ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিতাসের এমডির দায়িত্ব পালন করেন।
দুদক সূত্র জানায়, গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত্ করেন। ছাব্বের আহমেদের সময়ে গাজীপুরের মেসার্স এ এ কর্স স্পুন লিমিটেড, পেরাগন পোলট্রি, আনোয়ার ইস্পাত, সিআরসি টেক্সটাইল মিলস, পেনোরুমা ওয়াশিং কোম্পানি লিমিটেডসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে তিতাসের তত্কালীন এমডিও নিরব ছিলেন। আর এসব অবৈধ কাজে ‘মিডিয়া’ হিসেবে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম কাজ করেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদক সূত্র আরো জানায়, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিতাসের কর্মকর্তা ছাব্বের আহমেদের স্ত্রী রুমানা রিসাতের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব এবং ঠিকাদার সাইফুলের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ৪০ কোটি ৩৬ হাজার ৫৮৪ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।