অযত্নে অবহেলায় পর্যটক হারাচ্ছে বরগুনার পর্যটন কেন্দ্রগুলো

অযত্ন অবহেলায় পর্যটক হারিয়েছে স্বল্প সময়ে জনপ্রিয় বরগুনার সম্ভবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলো। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, হোটেল-মোটেল না থাকার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র সংস্কারে বরাদ্দ না থাকায় সৌন্দর্য্য হারিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দিবস পালন করার আগে পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন জরুরি। অনেক পর্যটনকেন্দ্র তীব্র ভাঙনের কারণে মিশে যাচ্ছে সাগরে।

বরগুনার জেলার তালতলী উপজেলার ফকিরহাটে অবস্থিত টেংরাগিরি বন যা একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় টেংরাগিরি বনাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৯৬৭ সালে। 

তালতলী থেকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। যা ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৫৮ হেক্টর জমি নিয়ে গঠিত হয় টেংরাগিরি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য। এরপরে ২০১১ সালে এ বনে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের অভয়ারণ্যে হরিণ, শূকর, চিতাবাঘ, অজগর, কুমির, বানর, শজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী । 

আরও রয়েছে সুন্দরবনের আদলে সৃষ্ট নয়নাভিরাম সারি সারি গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, কেওয়া, তাল, কাঁকড়া, হেতালসহ আরও বিভিন্ন প্রকার গাছ। সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বরগুনার তালতলীর সোনাকাটা ইকোটুরিজ্যমের দক্ষিন প্রন্তে। তবে এ পর্যন্ত আসার আগে পর্যটকদের চোখে পরবে মায়াবী হরিণ, কাঠ বিড়ালি, কুমির, বানর, শুকরসহ নানান ধরনের বন্য প্রাণী ও ২য় সুন্দরবনের হাজারো রকমের গাছ। এক সময়ে এসব দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড় থাকতো ১২ মাস। তবে যা এখন শূন্যের কোঠায়।

তালতলী সোনাকাটা ইকোটুরিজ্যমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন প্রামানিক বলেন, 'এখানে হোটেল-মোটেল না থাকা ও পর্যটন কেন্দ্রের ভিতরের ব্রিজগুলো ঝূকিপূর্ণ থাকায় এখন প্রকৃতির এসব সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত শুভ সন্ধা সমুদ্র শৈকত। মাথার উপরে নীল আকাশ, সামনে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি আর পিছনে মন মাতানো ঝাউবনের কারণে স্বল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়েছিলো তালতলীর শুভ সন্ধ্যা পর্যটনকেন্দ্র। তবে গত দেড় বছর ধরে বিচের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় প্রায় ৮থেকে ৯ ফুট দেবে গেছে পর্যটনকেন্দ্রটির সমুদ্র সৈকত। এক কিলোমিটার সি বিচ এখন সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ঝাউগাছ।

এই বনের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা, সমীর রঞ্জন মিস্ত্রী বলেন, বেসরকারি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় তীব্র ভাঙনে বিলীনের পথে পর্যটনকেন্দ্রটি। গাছ পালা ও রাস্তার ধ্বংসাবশেষ পরে থাকায় আটকে গেছে রাস্তা। আর এ পর্যটন কেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পর্যটকরা।

বরগুনা পর্যটক কল্যাণ সমিতির আহবায়ক, আরিফ রহমান বলেন, পর্যটন দিবস পালনের আগে পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা জরুরি। তাতে একদিকে যেমন পর্যটকরা তৃপ্তি পাবে তেমনি সরকারও পাবে রাজস্ব।

আরও পড়ুন: বোনের বিয়ে খেয়ে লাশ হয়ে ফিরলো শিশু শাহীন

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, শিগগিরই পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে কাজ করবে জেলা প্রশাসন। টেংরাগিরি ইকো ট্যুরিজম উন্নয়নের জন্য একটি প্রজেক্ট পাস হয়েছে। যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করতে।

ইত্তেফাক/নূহু