ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণে রোমাঞ্চিত সরফরাজরা

পাকিস্তানের বর্তমান দলের অধিকাংশেরই নিজেদের মাঠে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। সরফরাজ আহমেদ খেলোয়াড় হিসেবে ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলেছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে এই ফরম্যাটে দেশের মাটিতে কখনো খেলেননি তিনি। তাই পুরো পাকিস্তান দলের জন্যই আজ শুক্রবার করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দিনরাত্রির ওয়ানডেটিতে খেলা হবে নতুন এক অভিজ্ঞতা। এই অসামান্য অভিজ্ঞতার স্বাদ পুরোপুরি গ্রহণের জন্য দর্শকদের মাঠ ভর্তি করে ফেলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সরফরাজ ও তার সঙ্গীরা। 

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনেই আছে। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ দল হিসেবে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তানে। এরপর গত চার বছরে গোটা কয়েক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হলেও ওয়ানডে মাঠে গড়ায়নি। অবশেষে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে ফিরছে পাকিস্তানে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে খেলাটি।

এই সিরিজের আগে অধিনায়ক সরফরাজ বলেছেন, নিজের দেশের মানুষের সামনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াটা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার। তিনি আশা করছেন, আজ যখন মাঠে নামবেন, সে সময় তার পেছনে গ্যালারিভরা সমর্থকরা থাকবেন। সরফরাজ বলেন, ‘আমি আশা করছি, আমি যখন মাঠে বের হব, তখন আমার পেছনে গ্যালারি ভরা সমর্থকরা থাকবেন। তারা শুধু আমাদের জন্য চিত্কার করবেন না; দুই দলকেই সমর্থন জানাবেন। সমর্থকরা যে কোনো খেলার জীবনী। তারা যে কোনো খেলোয়াড় বা দলকে খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারেন। তারা দলকে বাড়তি শক্তি যোগাতে পারেন এবং দলকে সেরাটা খেলতে সাহায্য করতে পারেন।’

সরফরাজ মিনতি করে দেশের মানুষকে বলেছেন, শুক্রবার একটা ইতিহাস হতে যাচ্ছে করাচিতে। পরের প্রজন্মকে গল্প বলার জন্য হলেও সবাইকে মাঠে আসার অনুরোধ করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের এই দলের আরেকজন খেলোয়াড়ের পাকিস্তানে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তিনি হলেন বাবর আজম; বর্তমান দলের সহঅধিনায়ক। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। বাবর সেই সময়ের কথা মনে করে বলছিলেন, ‘শুক্রবার আমার জীবনের আরেকটা বড়ো দিন। যখন আমি পাকিস্তানের সহঅধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামব। আমি সারাদেশের মতোই করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামের উপস্থিত সব মানুষের জন্য একটা মনে রাখার মতো দিন দেখতে চাই।’

পাকিস্তানের নবনিযুক্ত কোচ মিসবাহ উল হক অবশ্য তার দেশে খেলাটির পুনরুজ্জীবনে ক্রিকেট বিশ্বকে আরো বেশি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। মিসবাহ নিজে যে ৫৬টি টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন, তার কোনোটিই দেশের মাটিতে হয়নি। এ কারণে তিনি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পাকিস্তানে খেলতে আসা শ্রীলঙ্কা দলেরও প্রশংসা করেন।