ওয়ার্ল্ডফিশ ও রিচ হারভেস্ট অ্যাগ্রোর মধ্যে চুক্তি

প্যাকেট আকারে বাজারে আসবে মাছজাত খাদ্যপণ্য

মাছজাত খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের সঙ্গে সাবগ্যারান্টি এগ্রিমেন্ট (অনুদান চুক্তি) করেছে হারভেস্ট রিচ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৯ সালের শেষ দিকে মাছজাত খাদ্যপণ্য প্যাকেট আকারে বাজারে নিয়ে আসবে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি রাজধানীর বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে হারভেস্ট রিচ ও ওয়ার্ল্ডফিশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি উপলক্ষে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পরিচালক (পুষ্টি) ড. মনিরুল ইসলাম, হারভেস্ট রিচ অ্যাগ্রো-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুসরাত বারী আশা, ওয়ার্ল্ডফিশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ম্যালকম ডিকসন এবং ওয়ার্ল্ডফিশের ডেপুটি চিফ অব পার্টি হারভেস্ট নাসীম আহমেদ আলীমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মাছের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করে মলা, রুই, তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাশ মাছ থেকে সুস্বাদু খাদ্যপণ্য প্যাকেট আকারে দেশব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে হারভেস্ট রিচ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে ফিশ সুপ প্যাক, ফিশ নাগেটস, ফিশ ফিঙ্গার, ফিশ বার্গার এবং ফিশ স্ন্যাক্স। এসব পণ্যের দাম ৭০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেই থাকবে। সারা দেশে বিভিন্ন সুপারশপ, আউটলেটসহ বিভিন্ন দোকান ও শোরুমে মাছজাত এসব পণ্য পাওয়া যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নুসরাত বারী আশা বলেন, আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি হলেও অনেকে আমরা মাছের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি না। অথচ মাছে নানা ধরনের দরকারি খাদ্য উপাদান আছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মাছ না খাওয়ার প্রবণতা বেশি। এসব সমস্যা মেটাতে মাছকে ভিন্নভাবে খাদ্য হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে আমরা গবেষণা করছি, যাতে বিভিন্ন মজাদার মাছজাত খাদ্যপণ্য নিয়ে আসা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে অন্যান্য ফাস্ট ফুডের প্রতি আগ্রহ থাকলেও মাছ খেতে আগ্রহ কম। সে ক্ষেত্রে মাছকে চিপসের মতো বিভিন্ন খাবার আকারে বাজারজাত করা হবে এবং তা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে আমিষের ঘাটতি পূরণ হবে।

ওয়ার্ল্ডফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মালকম ডিকসন বলেন, বাংলাদেশে মাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার এবং মাংসের মত মাছেরও চাহিদা রয়েছে। মাছজাত পণ্য বাজারে আসলে পুষ্টির চাহিদার পাশাপাশি মত্স্যখাতের উন্নয়ন ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে।