বন্ডেড চোরাই ফেব্রিক্সের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইসলামপুর এলাকায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী দুঃসাহসী অভিযান সম্পন্ন করেছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা। গত বুধবার দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানটি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সমাপ্ত হয়।
জানা যায়, ইসলামপুর এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি-জনাকীর্ণ হওয়ায় এবং চোরাকারবারি-সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত সংগঠিত হওয়ায় এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হতো। সে বিষয়টি মাথায় রেখে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনামতো একটি পূর্ণাঙ্গ অভিযান পরিকল্পনা দাঁড় করানো হয়। অভিযানে চার জন উপ-কমিশনার ও সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে প্রায় ১০০ কাস্টমস বন্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ডিএমপি এবং সিআইডি পুলিশের সশস্ত্র টিম অভিযানে পূর্ণকালীন সহায়তা করে। প্রয়োজনমাত্র সহায়তা প্রাপ্তির জন্য র্যাবের একটি টিমকেও প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানকার আল ইসলাম প্লাজা এবং শুভরাজ টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্লোরে মোট সাতটি গোপন গুদামে বিপুল পরিমাণ বন্ডেড চোরাই ফেব্রিক্স মজুত পাওয়া যায়।
অভিযান চলাকালে চোরাকারবারি-সন্ত্রাসীরা সংগঠিত হয়ে মার্কেটের বাইরের রাস্তা ব্লক করে স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, ভাঙচুর এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় ডিএমপি সদর এবং স্থানীয় কোতোয়ালি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
অভিযান শেষে প্রায় ১০৫ টন উন্নতমানের শার্টিং, স্যুটিং, পর্দার কাপড় জব্দ করে ৩০টি ট্রাক, পিকআপ, কভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে এসে কাস্টমস গুদামে জমাপ্রদান করা হয়েছে। বিশেষ অনুসন্ধান ও মামলা দায়েরের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস-বন্ড প্রতিষ্ঠানসমূহ চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।