স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বেড়া নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার, কানাডার হাইকমিশনার বেনোইট প্রিয়ন্টেইন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি ইইউ এনজিও প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গারা রয়েছে। আমাদের হিসেব অনুযায়ী দেশে এখন কমবেশি ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। তিনি বলেন, তারা (কূটনীতিকরা) রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা জানতে চেয়েছিলেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কতদিন থাকবে আমরা নিজেরাও জানি না। তবে আমরা মনে করছি, যে কোনো সময়ই এ প্রবলেম সলভ হবে।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতদের বলেছি জাতিসংঘ থেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা (রোহিঙ্গা) যাচ্ছেন না, প্রত্যেকবারই নানা প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফিরে গেলে জীবনের নিরাপত্তা ও অন্য নিরাপত্তা তারা পাবে না এ রকম মনে করছেন। কূটনীতিকরা রোহিঙ্গাদের সমাবেশের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, বেঁচে থাকার যে আকুতির কথা তারা সারা পৃথিবীকে জানিয়েছে, আমরা মনে করি তারা যথার্থভাবেই জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা ক্যাম্পগুলোতে বেড়া নির্মাণ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন- আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী (কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের) নির্দেশনা দিয়েছেন। সব ক্যাম্পেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করব। তিনি আরো বলেন, তারা (কূটনীতিকরা) বলেছেন, এটা (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) জেলখানা হবে কি না? আমি বলেছি, না, তা হবে না। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গারা মূল ভূমিতে এখনো যাতায়াত করে, তারা ইয়াবা নিয়ে আসছে। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যটাই হচ্ছে এসব, যাতে এখানে নতুন করে টেরোরিস্ট তৈরি না হয়। মানব পাচারকারীদের হাতে তারা যাতে না পড়ে।
সরকার এতদিন কেন বেড়া দেয়নি?—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তো বলতে পারছিলাম না, এ সমস্যাটা কবে সমাধান হবে। আগামী মাসে না আগামী বছরে না আরো পাঁচ বছর থাকবে। এজন্য ডিলে হয়েছে। এনজিওকর্মীদের ভিসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এনজিও কর্মী হিসেবে রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে আসবে তাদের ভিসা আমরা সবসময়ই দিয়ে আসছি। কিন্তু ইদানীং যেটা দেখছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা, একজন পুলিশকেও তারা হত্যা করেছে। তিনি বলেন, তারা সবাই স্বীকার করেছেন যে, যথাসম্ভব রোহিঙ্গাদের তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ও ইন্টারনেটের জন্য সময়সূচি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে বিদেশি টেরোরিস্টদের আওতায় যেতে না পারে, তারা যাতে রেডিক্যালাইজড না হয়, সেজন্য এ ব্যবস্থা।
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসবেন, তিনি নির্দেশনা দেবেন, ভাসানচর রেডি আছে। এটাও নির্ভর করে ইউএনএইচসিআর ও যারা এনজিও রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নিয়ে যাবেন। এ রকম চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। অভিযোগ আছে বিদেশি এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য প্ররোচিত করছে—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে এ রকম কোনো তথ্য নেই, তারা সবাই আমাদের সহযোগিতা করছে।