রাজধানীর চারটি ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনায় যুক্ত নেপালিদের পলায়নে সহায়তা করার অভিযোগে জড়িত তিন জনের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এ মতবিনিময় হয়। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ নিজাম প্রমুখ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি কোনো পুলিশ সদস্য লাভবান হওয়ার তথ্য ও অভিযোগ ওঠে তবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণ হলে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার নাম না বললেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তকৃত পুলিশের ঐ দুই সদস্য হলেন, ডিএমপিতে কর্মরত এএসআই মিঠু ও রমনা থানার কনস্টেবল দীপঙ্কর চাকমা। অপরজনের নাম জানা যায়নি।
দীপঙ্কর চাকমা গত ২৫ আগস্ট ছুটিতে যাওয়ার পর ৩ সেপ্টেম্বর যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু তারপরও যোগদান না করায় ১৭ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি জিডি করে থানা কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি মতিঝিল বিভাগ। ক্লাব থেকে ১৬টি ডিজিটাল ক্যাসিনো বোর্ড, তাস খেলার বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, জুয়া খেলার সামগ্রী এবং মাদকদ্রব্য (মদ, সিসা) উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, মোহামেডানে ক্যাসিনো চালাতেন ১৩ নেপালি। এই ১৩ নেপালি নাগরিকের মাসিক বেতন ৬০০ ডলার (৫১ হাজার ৩০০ টাকা) থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলার (৮৫ হাজার ৫০০ টাকা) পর্যন্ত ছিল। প্রতি মাসে এই ১৩ নেপালি নাগরিককে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকার বেতন দিত মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
তবে পুলিশের তিন সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন ক্যাসিনো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১৯ নেপালিকে পালাতে সাহায্য করেন বলে জানা যায়। তারা সেগুনবাগিচা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। সিসিটিভি ফুটেজে পালানোর দৃশ্য ধরা পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ওয়াকিটকি হাতে ঐ ব্যক্তি সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও তা নাকচ করেছিলেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিন জনের একজন হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাগ ওপরে ওঠার সময়ে তার হাতে ছিল না। এর কিছুক্ষণ পরে ঐ ফ্ল্যাটে গেস্ট পরিচয় দিয়ে আরো কয়েকজন নেপালি ঢোকেন। ফ্ল্যাট থেকে রাতে একে একে বেরিয়ে যান ১৯ নেপালি।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মামুন বলেন, সাদা পোশাকে পরিচয় দেওয়া পুলিশ যাওয়ার পর কয়েকজন এ ফ্ল্যাটে আসেন। এরপর তারা রাতে একসঙ্গে বেরিয়ে যান।