আরেকটি অর্জনের দুয়ারে মাশরাফি

রেকর্ড, মাইলফলকের বিষয়ে বরাবরই নির্লিপ্ত মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যক্তিগত অর্জনকে কখনোই বড় করে দেখেন না তিনি। দলীয় সাফল্যই বেশি প্রাধান্য পায় তার কাছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। গত রবিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল ওয়ানডেতে তার ২০০তম ম্যাচ। ক্রিকেট দুনিয়ার ৭৮তম ক্রিকেটার হিসেবে এই অর্জনের অধিকারী হয়েছিলেন তিনি। উইকেট শিকারের তালিকায় কপিল দেবকেও (২৫৩) ছাড়িয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস (২৫৫)।

আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও আরেকটি অর্জনের হাতছানি মাশরাফির সামনে। মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ টস করতে নামলেই বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ছুঁয়ে ফেলবেন হাবিবুল বাশার সুমনকে। জাতীয় দলের নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৬৯টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজকের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ৬৯তম ম্যাচ।

তবে জয়ের দিক থেকে হাবিবুলের চেয়ে অনেক এগিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস। সর্বোচ্চ ৩৯ জয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক তিনি। হাবিবুলের নেতৃত্বে ২৯টি জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। ৫০ ম্যাচে তার হাত ধরে ২৩টি জয় পেয়েছিল টাইগাররা।

২০০৯ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথমবার ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি ২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে। তার নেতৃত্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথমবার ইংল্যান্ডকে হারানোর ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। পরে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতেই আবার চোটের কারণে ছিটকে পড়েন তিনি। ২০১৪ সালে হারের বৃত্তে থাকা দলের হাল ধরতে বিসিবি দ্বারস্থ হয় মাশরাফির।

তারপর থেকে এই পর্যন্ত ৬৪টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার ৬১টি ম্যাচেই টস করেছেন ডানহাতি এই পেসার। বিশ্রাম ও স্লো ওভার রেটের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মিস করেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

ক্যারিয়ারের অর্জনগুলো বড় সম্মান বলেই মানেন মাশরাফি। এসবের ভালোলাগা নাকি ক্যারিয়ার শেষেই বেশি অনুভব করা যাবে। পেছন ফিরে তাকালে বেশি তৃপ্তি দিবে।

তবে নিজের চেয়ে অগ্রজ হাবিবুল বাশার সুমনের সময়টাকেই এগিয়ে রাখছেন মাশরাফি। তখন দলও অনভিজ্ঞ ছিল, সময়টাও অনেক কঠিন ছিল। গতকাল বিডিনিউজকে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘সবসময়ই বলে আসছি, সুমন ভাই (হাবিবুল) বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সবচেয়ে কঠিন সময়ে। অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতরও দলকে জিততে শিখিয়েছেন ওই সময়ে। তার সময়ের সঙ্গে আসলে আমাদের তুলনা চলে না। তার আগে বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কই মনে হয় এক-দেড় বছরের বেশি টিকতে পারেননি। দল হারত, অধিনায়কের কাজ ছিল কঠিন। সেই সময়ে সুমন ভাই তিন-চার বছর অধিনায়কত্ব করেছেন। তার ৬৯ ম্যাচ আসলে আমার ৬৯ থেকে অনেক এগিয়ে।’

মাশরাফির চোখে নিকট ভবিষ্যতে তাকেও ছাড়িয়ে যাবেন সাকিব। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার তৈরি করবেন নতুন মানদণ্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমি যেখানেই থামি, আমাকেও একসময় ছাড়িয়ে যাবেন অনেকে। সাকিব তো নিশ্চিতভাবেই আমার চেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবে। ওর সেই যোগ্যতা, সামর্থ্য, সময়, সবই আছে। পরের জনের জন্য রেকর্ডটি অনেক উঁচু তারে বেঁধে দেবে ও। দেশের ক্রিকেটেও আশা করি নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে।’

বাংলাদেশের সেরা পাঁচ ওয়ানডে অধিনায়ক

নাম                           ম্যাচ       জয়        পরাজয়         হার

হাবিবুল বাশার            ৬৯        ২৯         ৪০               ৪২.০২%

মাশরাফি বিন মুর্তজা     ৬৮        ৩৯        ২৭               ৫৯.০৯%

সাকিব আল হাসান       ৫০        ২৩        ২৬               ৪৬.৯৩%

মোহাম্মদ আশরাফুল      ৩৮        ৮          ৩০              ২১.০৫%

মুশফিকুর রহিম           ৩৭        ১১         ২৪               ৩১.৪২%