স্পোর্টস রিপোর্টার
ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল। ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, আরিফুল হক, নাজমুল অপু, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মিঠুনরা গতকাল এসেছিলেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন তারা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও এসেছিলেন গতকাল। জিম করেছেন। মিটিং করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে।
গত রবিবার প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ দল। টেস্টের মতো প্রথম ওয়ানডেতেও বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১-০ তে এগিয়ে থাকায় ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের মঞ্চ। আজ জিতলেই এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ বগলদাবা করতে পারবে টাইগাররা। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ১টায়।
নির্ভার বাংলাদেশের চোখ তাই সিরিজ জয়ে। চলতি বছরে তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আজ ম্যাচ জিতলে টানা তিনটি সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে মাশরাফির দল। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছিল।
গতকাল অনুশীলন শেষে বাংলাদেশের স্পিন কোচ সুনীল যোশি বলেছেন, জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকেই সবার মনোযোগ। তিন বিভাগে নজর দিচ্ছেন তারা।
ভারতীয় এই কোচ বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের জেতাটা জরুরি। জয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আগামীকাল (আজ) জিতে যাই, সবকিছুই ঠিকঠাক মতোই হবে। ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে উন্নতির বিষয়ে আপনার প্রশ্নটা ঠিক আছে। ব্যাটি, বোলিং কিংবা ফিল্ডি যেটাই হোক, যখন আমরা জিততে চাইব তখন এ তিনটির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।’ সিরিজ জিততে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত যোশি। পেস বিভাগে মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজ রয়েছেন। স্পিনে সাকিব, মিরাজ, হাত ঘুরাতে পারেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া স্লো মিডিয়াম পেস করতে পারেন সৌম্য সরকারও।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে যোশি বলেছেন, ‘দেখুন সাদা বলের ক্রিকেট খুবই শক্ত। সাদাবলের ক্রিকেট হতে পারে টি-২০ কিংবা ৫০ ওভারের, আমরা অনেক শক্তিশালী এবং আমরা উচ্চমানের দক্ষতার পর্যায়ে আছি।’
একাদশে তিন পেসার থাকতেও প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং ওপেন করেছিলেন দুই স্পিনার মিরাজ ও সাকিব। সেটি কৌশলের অংশ ছিল বলেই জানালেন বাংলাদেশের স্পিন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সাদা বল ওয়ানডে ফরমেটে এটাকে বেশ কঠিন করে তোলে কারণ ৫০ এর মধ্যে ২০ ওভারই তারা (স্পিনাররা) করেছে। আর অবশ্যই উভয় প্রান্ত থেকে দুই স্পিনারকে দেখে তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাও লক্ষ্যণীয় ছিল। তাই বোলিং বিভাগে অবশ্যই কিছু কৌশলী পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়।’
যোশির মতে, সাকিব এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সাকিব শুধু আমাদের জাতীয় মর্যাদা ও মেধাই নয়, আপনি তাকে বলতে পারেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে সেরা ক্রিকেটার। তার অবস্থান নিয়ে আমি কিছু বলছি না, আপনি যদি তার গুণাগুণের দিকে লক্ষ্য করেন, আমি তার গুণের দিকে তাকিয়েই বলছি বোলার, ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দুর্দান্ত প্রতিভাধর, দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড়।’
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের উন্নতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। যোশি বলছেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ক্রিকেটাররা সবাই নিজের দায়িত্বটা বুঝতে পারছেন। যার ফলই পাচ্ছে বাংলাদেশ।