মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
কম্পিউটারের বিভিন্ন ব্যবহারের কথা আমরা ইতিমধ্যে শুনেছি। তবে সার্ভালেস কম্পিউটারের কথা হয় তো অনেকেই আগে শুনেননি। সার্ভারলেস বলে আসলে কোনো জিনিস নেই, তবে এটাকে এক টাইপের মার্কেটিং টার্ম বলতে পারেন। কিন্তু এর নাম ‘সার্ভারলেস’ই কেন হলো সেটা হয়তো অনেককে ভাবিয়ে তুলছে। আমাদের এবারের লেখায় সার্ভারলেস কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সার্ভারলেস কম্পিউটিং কি?
কম্পিউটিং বলতেই সেখানে কম্পিউটারের অস্তিত্ব থাকবে, সেটা আপনার সামনেই হোক আর ব্যাকগ্রাউন্ডে। আচ্ছা ব্যাপারটা একেবারে শুরু থেকে শুরু করা যাক। ধরুন, আপনি একটি ওয়েবসাইট হোস্ট করতে চান। সেক্ষেত্রে টেকনিক্যালি আপনাকে কি করতে হবে? আপনার একটি কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়বে, কোনো ওয়েবসাইট রান করতে অবশ্যই কম্পিউটিং রিসোর্স প্রয়োজনীয় হয়। এখন খালি কম্পিউটার হলেই হবে না । প্রথমে ডিসেন্ট অ্যামাউন্ট হার্ডওয়্যার প্রয়োজনীয় হবে তারপরে কম্পিউটারটিতে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করতে হবে, তারপরে ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। তারপরে আপনার ওয়েবসাইটটি হোস্ট করে রান করতে পারবেন।
নেটওয়ার্কিং, ফায়ারওয়াল ইত্যাদি কনফিগার করার ব্যাপারগুলো তো রয়েছেই। এখন আপনি চাইলে নিচের পিসিতেও ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারেন অথবা হোস্টিং কোম্পানি থেকে সার্ভার কম্পিউটার ভাড়া নিয়ে ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারেন।
ওয়েবসাইট হোস্ট করতে কি কি লাগছে? অনেক টেকনিক্যাল নলেজ সঙ্গে কম্পিউটার ম্যানেজ করার ঝামেলা পোহানোর প্রস্তুতি তো আপনার লাগবেই। এই ঝামেলাগুলো না করে জাস্ট ওয়েবসাইট হোস্ট করা যায় না। মানে সার্ভার কম্পিউটার ম্যানেজ না করে বা কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল না করে কি করা যায়? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই জেগে উঠছে। হ্যাঁ, যায়! আর এখানেই সার্ভারলেস কম্পিউটিং টার্মটি চলে আসে।
সার্ভারলেস মানে সেখানে কোনো সার্ভারই যে নেই, এমনটা নয়। বরং সার্ভারলেস মানে হচ্ছে ইউজারকে সার্ভার ম্যানেজ করতে হবে না। আপনাকে চিন্তা করতে হবে না আপনার ওয়েবসাইট রান করতে বা আপনার অ্যাপ হোস্ট করতে কত র?্যাম লাগবে, কত কোর সিপিইউ লাগবে, কত ব্যান্ডউইথ লাগবে—এখানে সবকিছুই ম্যানেজড হবে। আপনি জাস্ট ওয়েবসাইট হোস্ট করবেন, আপনাকে কম্পিউটার ম্যানেজ করতে হবে না।
এখন ব্যাকএন্ডে অবশ্যই সার্ভার রয়েছে, আর আপনার সাইট ক্লাউডে হোস্ট করা থাকবে। এখন ক্লাউডে হোস্ট করা রয়েছে বলেই যে সার্ভারলেস টার্মটি উপযুক্ত প্রমাণিত হবে, এমনটা নয় কিন্তু। ক্লাউড মানেই তো সার্ভারের এক খামার যেটা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এতে মোটেও সার্ভারলেস হয়ে যায় না সম্পূর্ণ ব্যাপারটি। কিন্তু বলতে পারেন সার্ভারলেসের নামে আপনাকে যে সার্ভিসটি প্রদান করা হচ্ছে সেটা থেকে সার্ভারলেস এক্সপেরিয়েনস পাবেন।
সার্ভারলেস কম্পিউটিংয়ের সুবিধা
সার্ভারলেস টার্মটি বিশেষ করে বিজনেস পলিসির জন্যই ব্যবহার করা হয়। এই টার্ম দ্বারা বিগেনার টাইপ ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। ব্যবহারকারীদের ম্যানুয়াল কোনো কনফিগ করতে হবে না, কোনো অ্যাপ নিজে থেকে ইনস্টল করতে হবে না, জাস্ট আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করুন, বাকিটা মানে ব্যাকঅ্যান্ড সিস্টেম ক্লাউড কোম্পানি ম্যানেজ করবে।
গুগল ড্রাইভের মতো কোনো ফাইল স্টোরেজ সার্ভিস এখনো চালু হয়নি। তাহলে ক্লাউডে ফাইল স্টোর করার জন্য আপনাকে কী করতে হতো? আপনাকে ফুল সার্ভার ভাড়া নিতে হতো, তারপর নিজস্ব ফাইল ম্যানেজার সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হতো, নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করতে হতো, তারপরেই আপনি ক্লাউড সার্ভারে ফাইল হোস্ট করতে পারতেন। কিন্তু গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করতে আপনাকে কী করতে হচ্ছে? কিছুই না! জাস্ট সাইনআপ করেই ফাইল আপলোড শুরু করতে পারছেন। এর পেছনের কনফিগারেশন, সার্ভার, ডিস্ক, নেটওয়ার্ক —সবকিছু গুগল ম্যানেজ করছে।
সার্ভারলেস কম্পিউটারে আরেকটি মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনি সার্ভার থেকে ঠিক যতটুকু রিসোর্স ইউজ করছেন, তার জন্যই পে করবেন। আপনাকে সম্পূর্ণ সার্ভারের বিল পে করতে হবে না। এখানে মাসিক কোনো ফিক্সড সার্ভার প্ল্যান কিনে চার্জ দিতে হবে না। আপনি দৈনিক কত সময় ব্যবহার করছেন, তা হিসাব করে বিল আসবে।
এখানে কিন্তু সার্ভার প্রভাইডারদেরও সুবিধা রয়েছে। আপনার সাইটে কখন কতটুকু রিসোর্স লাগবে, সে অনুসারে সার্ভার সফটওয়্যার সেই পরিমাণে রিসোর্স আপনার অ্যাপ্লিকেশনের জন্য সেট করে দেবে। যখন আপনার সাইটে বেশি ট্র্যাফিক আসছে না, তখন জাস্ট আপনার অ্যাপ্লিকেশনের জন্য রিসোর্স কমিয়ে দেওয়া হবে। আর ঐ রিসোর্স আলাদা কোনো ক্লায়েন্টের অ্যাপ্লিকেশন ফাস্ট করবে।
কীভাবে সার্ভারলেস কম্পিউটিং ব্যবহার করবেন
বর্তমানে অনেক অনেক ক্লাউড কোম্পানি সার্ভারলেস কম্পিউটিং সলিউশন প্রদান করে থাকে। আপনাকে একটি কনসোল আক্সেস দেওয়া হয়, আর আপনি সেটা দিয়ে আপনার অ্যাপটি ম্যানেজ করতে পারেন। বাকিটা সার্ভারলেস সার্ভিস থেকে হ্যান্ডেল করা হয়।
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ল্যাম্বডা নামক একটি সার্ভিস রয়েছে, যেটা মূলত একটি সার্ভারলেস কম্পিউটিং সার্ভিস। আপনাকে সার্ভারের ম্যানেজ করা নিয়ে বা সার্ভার চার্জ দিতে হবে না, যতক্ষণ আপনার কোডটি রান হবে, ঠিক সেই সময়ের বিল প্রদান করতে হবে, বাকিটা ব্যাকঅ্যান্ড সার্ভিসগুলো অ্যামাজন নিজে হ্যান্ডেল করবে। শুধু অ্যামাজনই নয়, মাইক্রোসফট অ্যাজারও একই টাইপের সার্ভিস প্রদান করে থাকে। বর্তমানে তো সার্ভারলেস ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ও মার্কেটে চলে এসেছে! আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটির স্ট্যাটিক ভার্সন আপলোড করা থাকবে। আপনাকে ওয়েব সার্ভার, পিএইচপি ভার্সন, ডাটাবেজ—কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করতে হবে না। ফ্রন্ট অ্যান্ড থেকে যে সাইটটি সবাই দেখতে পাবে, সেটা কেবলই এইচটিএমএল স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট। আর ব্যাকএন্ডে ঠিক তখনই ওয়ার্ডপ্রেস রান হবে, যখন দরকার পড়বে।