রাজবাড়ীর জৌকুড়া-পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ফেরি চলাচল টানা এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে গত রবিবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। শুক্রবার সকালে জৌকুড়া ফেরিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে পাবনা জেলার যাত্রীরা ঘাট এলাকায় বসে আছেন ট্রলারের আশায়।
এ সময় পাবনা জেলার বাসিন্দা নজর মওলা বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর ট্রলার ছেড়ে যাচ্ছে। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় ট্রলারগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
জৌকুড়া ঘাটের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান শরিফের প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা জানান, এই নৌপথে চলাচলকারী ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে গত শনিবার থেকে। এই নৌপথে যে ফেরি দুটি রয়েছে তা পুরোনো। সামান্য স্রোতেও চলতে সমস্যা হয়।
তিনি আরো জানান, এই ঘাটটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা। তাদের কুষ্টিয়া জেলা হয়ে পাবনায় যেতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। পদ্মার পানি ও স্রোত কমে গেলে শুরু হবে ফেরি চলাচল। এ ব্যাপারে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ঘাট বন্ধের একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে টানা এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙন এলাকায় এরই মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন রোধে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।