দুর্নীতি রোধে চাই যুগোপযোগী আইন

সাহস রতন

 

প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই দুর্নীতির সংবাদ। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র এবং যুব ক্যাডারদের দৌরাত্ম্যের খবর। এমন নয় যে, এইসব দুর্নীতি কেবল বর্তমান সরকারের আমলেই হচ্ছে। বিগত চার দশক ধরেই চোর-ঘুষখোর আর দলীয় ক্যাডাররা সক্রিয়। আগেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কর্মকর্তারা ঘুষ খেত, এখনো খায়। কিন্তু আগে বাজেট ছিল ছোটো, ঘুষের পরিমাণও কম। এখন বিশাল বাজেট, কাজেই সামান্য শতাংশ ঘুষেই কোটি কোটি টাকা। ইদানীং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অনেকেই ধরা খেয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসনের বড়ো কর্মকর্তা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশা, এমনকি রাজনীতিবিদ কেউই বাদ যাচ্ছেন না। দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেই গ্রেফতার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। যদিও ডিমঅলা মোটাভুঁড়ির রুই-কাতলা টাইপের কর্মকর্তাগুলোকে জেলে ঢোকানোর জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিতে হচ্ছে। এখানেই পরিবর্তন দরকার। চোর-ঘুষখোরকে গ্রেফতার করে চৌদ্দশিকের ভেতর ঢোকাতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমতি লাগবে কেন? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যার জীবন চলছে, সেই কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাকে গ্রেফতারের আগে রাষ্ট্রপতির অনুমতি লাগবে আর জনগণকে যে কোনো সময় ৪৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে এটা কী ধরনের আইন? এইধরনের বৈষম্যমূলক আইন বিদ্যমান আছে বলেই চোর-ঘুষখোরগুলো লাগামহীনভাবে দুর্নীতি করেই যাচ্ছে। সময় এসেছে ব্রিটিশ আমলের আইন বদলে সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুটিকয় পুলিশ সদস্য নিয়ে যেসব দুর্দান্ত অভিযান পরিচালনা করতে পারেন—তা দেখেই আমরা বুঝতে পারি যে, সামগ্রিক প্রশাসন ঠিকভাবে চললে দেশে কী হতে পারে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ঠিক পথে থাকলে এমন কোনো বাপের পুত দেশে পয়দা হয় নাই যে, দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, বেতনভুক পাহারাদাররা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক লুটেরাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অপার সম্ভাবনাময় এই দেশটাকে একেবারে শেষ করে দিচ্ছে। আর এটা হচ্ছে, যুগোপযোগী আইন না থাকার কারণে, আইনের দুর্বলতার সুযোগে।

যেভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিচার হয়েছে, যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, যেভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই দুর্নীতিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে চিরতরে নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতিবাজরা এখন তলে তলে একজোট হয়েছে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য। আমাদের বিশ্বাস, অতীতের মতো বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা এই পরিস্থিতিও কঠিন হাতে সামাল দেবেন। আর দুর্নীতিবাজরা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করবে। তবে এর জন্য সঠিক, সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী আইন পাশের কোনো বিকল্প নেই।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সময় আসন্ন। অনেক সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। আর দেরি নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বর্তমান সংসদেই সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী নতুন নতুন আইন পাশ করে, সেসব আইনের আওতায় দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এই অভূতপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় আছি। আমার বিশ্বাস একমাত্র উনিই এটা করতে পারবেন।

ঢাকা