১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও নেত্রকোনা পাক হানাদার মুক্ত হয় ৯ ডিসেম্বর। এ খবর শুনেই এলাকার মানুষ পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসে। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নেত্রকোনা জেলা। পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ মূলত নেত্রকোনার ভারতীয় সীমান্ত দুর্গাপুর, কলমাকান্দা এবং শেরপুর এলাকার অংশ দিয়ে হয়। নেত্রকোনার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল মমিন, এনআই খান, আব্বাস আলী খান, আব্দুল খালেক, ফজলুর রহমান খান, সাদির উদ্দিন আহমেদ, তারা মিয়া এবং হাদিস চৌধুরী সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে প্রশিক্ষণ ও দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ মোকাবেলা করতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে নেত্রকোনাশহরে ময়মনসিংহ সড়কের পাশে কৃষি ফার্মে এসে জড়ো হয়। নেত্রকোনা শহরকে শত্রু মুক্ত করতে কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ, তার ভাই আবু আক্কাছ আহমেদ ও আশরাফ আলী খান খসরু (এন আই খানের ছেলে) প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধারা চর্তুমুখী আক্রমণ চালায়। ৭ এবং ৮ ডিসেম্বর দুই দিন আক্রমণ চলে। পাক হানাদারদের সঙ্গে সম্মুখ লড়াইয়ে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তারা হলেন আবু খাঁ, আব্দুর রশিদ এবং আব্দুস সাত্তার। আহত হন মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ।
নেত্রকোনার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, ৯ ডিসেম্বর সকালে আশরাফ আলী খান খসরু শহরে অবস্থানরত পাকবাহিনীর উপর মার্টার সেল নিক্ষেপের পরই পাক সেনারা শহর থেকে হটে যায়। ভারতীয় ক্যাপ্টেন চৌহান, আশরাফ আলী খান খসরু, ইব্রাহিম চেয়ারম্যান, আইয়ুব আলী ও আব্দুর রহিমসহ মুক্তিযোদ্ধারা নেত্রকোনা শহরে প্রবেশ করেন। ১১ ডিসেম্বর তত্কালীন ছাত্রলীগ অফিসে মুজিব বাহিনী এবং ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ৯ ডিসেম্বর চারদিক দিয়ে পাক হানাদারদের উপর আক্রমণ করে শহর শত্রুমুক্ত করার পরপরই হাজার হাজার শহরবাসী ঘরে লুকিয়ে রাখা স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসে। নেত্রকোনার ভাষাসংগ্রামী প্রবীণ চিকিত্সক ডাঃ এম এ হামিদ খান বলেন, ৯ ডিসেম্বর ছিল নেত্রকোনার ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। নেত্রকোনা মুক্ত হওয়ার খবর শোনা মাত্রই নারী-পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ-বণিতা স্বাধীন বাংলার পতাকা হাতে রাস্তায় রাস্তায় উচ্ছাস ছিল দেখার মত।