শিশু থেকে তরুণ সবার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় এই সময়ের ক্রেজ কী? এক কথায় সবার উত্তর হবে—কেন, ইউটিউবার! তারা এমন মজার মজার সব ভিডিও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়, যা দেখে সারা পৃথিবীর মানুষ হাসে, কাঁদে এবং অনেক কিছু জানতেও পারে। তাই দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় ইউটিউবারদের পোস্টের জন্য অপেক্ষা করে থাকে তাদের ভক্তকুল। ইউটিউব হচ্ছে এই সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। ছেলে থেকে বুড়ো এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে দিনের একটা বড়ো সময় এই ইউটিউবের ভিডিও দেখে কাটায় না। এই ইউটিউবে যারা ভিডিও শেয়ার করে, তাদের বলা হয় ইউটিউবার।
তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় কাটানো মানে পুরোটাই ‘টাইম পাস’। কোনো বিষয়ে জানতে ইউটিউবে অনুসন্ধান করলেই মেলে ভিডিও। পৃথিবীর এমন কোনো বিষয় নেই, ইউটিউবে যার ভিডিও নেই। বাগান করা, শাড়ি পরা, সালোয়ার-কামিজ বানানো, ভিডিও গেম খেলার পদ্ধতি, গান শেখাসহ, বিশ্বের সব ভাষার গান, সিনেমায় এক ভরপুর দুনিয়া এই ইউটিউব। আর যারা এই ইউটিউবকে এমন বৈচিত্র্যময় করে তুলছে, সেই ইউটিউবাররাই হলো এই সময়ের জনপ্রিয় তারকা। বিশ্ব জুড়েই ছড়িয়ে আছে সফল ইউটিউবার। বাংলাদেশেও কয়েকজন ইউটিউবার বেশ নাম করেছে।
বিশ্বে কিছু ইউটিউবার আছে, যাদের সাফল্য শুনলে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। এদের আয় বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। তারা শুধু টাকা নয়, একইসঙ্গে খ্যাতি ও সম্মান অর্জন করছে সমান তালে। এই সময়ে বিশ্বের সেরা ১০ ইউটিউবার হচ্ছেন পিউডিপাই, ড্যানটিডিএম, নিনজা, মিস্টার বিস্ট, স্মশ, লুকাস নেটো, জেক সেপটিসি, ভেজিটা ৭৭৭, ফিলিপ নেটো ও এল রুবিয়াস। এছাড়া গত বছর সেরা দশে ছিলেন লিলি সিং, রায়ান টয়েস রিভিউ, স্মশ, জেক পল, পিউডিপাই, মার্কপিলার, লোগান পল, ডুড পারফেক্ট, ইভান ফন ও ড্যানটিডিএম।
দেশের সফল ইউটিউবারের উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই যার নাম উচ্চারিত হয়, তিনি আয়মান সাদিক। তিনি বক্তা ও অনলাইন শিক্ষক। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে তার হাত ধরে উঠে আসে ‘টেন মিনিট স্কুল’ নামের একটি অনলাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা অনলাইনে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও সহযোগিতা বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। তারপর আছেন সালমান মুক্তাদির। স্যামন দ্য ব্রাউন ফিশ নামে এই ইউটিউব চ্যানেল থেকে হাসির ভিডিও দিয়ে থাকেন, যা কিশোর-তরুণদের কাছে খুব জনপ্রিয়। এছাড়া রাবা খান এই সময়ের নারীদের বিষয় নিয়ে ভিডিও শেয়ার করেন, যা হাসির আড়ালে অনেক সত্য ও অসংগতিকে তুলে আনে। আরো রয়েছেন ভাই ব্রাদার্স লিমিটেড, ক্রেজি বাংলাদেশি, জেফার রহমান, মজা লস, ম্যাঙ্গো স্কোয়াড, তৌহিদ আফ্রিদি, আজাইরা লিমিটেড, অন্তীক মাহমুদ, রিদি শেখসহ অনেক নামকরা ইউটিউবার। তারা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইউটিউব জগত্ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ইউটিউবে ফ্রিতে কেউ ভিডিও আপলোড করেন না। এর পেছনে রয়েছে মুনাফার ব্যাপার-স্যাপার। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী, শুধু ইউটিউবে খেলনার রিভিউ দেখিয়ে ২২ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছে রায়ান নামের এক শিশু। যার বয়স মাত্র সাত বছর! দ্বিতীয় স্থানে আছেন জেক পল নামের এক তরুণ, যার আয় ২১.৫ মিলিয়ন ডলার।
ভালো আইডিয়া রয়েছে এমন যে কেউ ইউটিউবে নিজের চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। যদি তা মানুষের পছন্দ হয়, তবে তাতে আয় হতে পারে লক্ষ-কোটি টাকাও। তবে সেক্ষত্রে ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কিছু নিয়মকানুন মানতে হবে। বিতর্কিত ভিডিও যেমন ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে কোনো ভিডিও আপলোড করা যাবে না। এছাড়া আপত্তিকর ও অশ্লীল বিষয়বস্তুও দেওয়া যাবে না।
ইউটিউব থেকে আয়
ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে অবশ্যই চ্যানেলটিকে মনিটাইজেশন করতে হবে। ইউটিউবে ভিডিওতে অ্যাড বসানো এবং এর দ্বারা আয় করাকে বলা হয় ইউটিউব মনিটাইজেশন। আগে ইউটিউব মনিটাইজেশন খুবই সহজ ছিল। চ্যানেল খোলার পরই এটি করা যেত। এখন বেশ কিছু নিয়মকানুন যুক্ত করা হয়েছে। আয়ের জন্য গুগল ইউটিউব অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য ইউটিউব চ্যানেলটিকে কিছু যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। যেমন চ্যানেলটির ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে। আর তা হতে হবে শেষ এক বছরের মধ্যে। অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাই করতে হলে সেই জিমেইল অ্যাকাউন্টধারীর বয়স ১৮ হতে হবে এবং চ্যানেলের চ্যানেল আইকন থাকতে হবে। এরপর নিয়মিত নিত্যনতুন ভালো মানের ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে চ্যানেলের ভিউয়ার বাড়তে থাকবে।