কয়দিন পর সরকারের আয়ু শেষ, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে -------------ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আর কয়েকদিন পর এ সরকারের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে এ শেষ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে জনগণকে। দেশের মালিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ৩১ ডিসেম্বর এ সরকার দেশের মানুষকে মুখ দেখাতে পারবে না। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, দেশে বিনা বিচারে মানুষ মারা যাচ্ছে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা। সংসদ সদস্যদেরও এটা খতিয়ে দেখা দরকার। তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হলেও এখনও তারা সংসদ সদস্য হিসাবেই বিবেচিত। আর কয়েকদিন পরতো এ সব এমপি সাধারণ পাবলিকে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের বলব— যাবার আগে প্লিজ একটা কিছু করে যান। তিনি বলেন, জনগণকেও মানবাধিকার রক্ষায় প্রহরীর ভূমিকায় থাকতে হবে। কেন বিনা বিচারে মানুষ মারা যাচ্ছে, এ ব্যাপারে সরকার যদি আমাদেরও কোনো সহযোগিতা চায়, আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কারণ আমরাও সরকারের প্রশংসা করতে চাই। প্রবীণ এ আইনজ্ঞ বলেন, বিনা বিচারের মানুষ মারা যাওয়াতো একটি সমাজে অবিচারের বড় নমুনা। দেশে এটাতো মহামারি আকারে ধারণ করেছে। গণতান্ত্রিক সমাজেতো অবিচার টিকে থাকার কথা না। দেশের বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ ৫৮টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার খবরে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতীয় পার্টি-জেপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। এখানে যোগ্যতা হচ্ছে টাকা। যদি টাকাই যোগ্যতা হয় তা হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না। নুরল হুদা মিলু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, মানবাধিকার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান, ড. ফরিদউদ্দিন ফরিদ, অধ্যাপক অমিত আজাদ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তালুকদার মনিরুজ্জামান।