গাছের তলায় পড়ে থাকা শিউলি ফুল, অঞ্জলির অপেক্ষায়

শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই জলদগম্ভীর কণ্ঠে ভেসে আসবে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর; ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা.....’। দেশের পাড়া-মহল্লায় ইতিমধ্যেই লেগে গেছে আনন্দের আমেজ। প্রাণে প্রাণে জ্বলছে খুশির তারা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে জম্পেশ আড্ডা। প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজে শশব্যস্ত কারিগর ও বারোয়ারী পূজা মণ্ডপ গুলো। আর সাতদিন পরই মা দুর্গা পরিবার সমেত মর্তে আসবেন।

এই একটা দিন, বোকা বাক্সের চেয়েও বড় বেশি কাছের মনে হয় বছরভর আলমারিতে উঠিয়ে রাখা আয়তাকার কালো বাক্সটাকে। বাঙালির স্মৃতি মেদুরতা একটা দিন, কাছের মানুষ ঘরে ফিরবে অথবা এবারেও ফেরা হবে না, মনে করিয়ে দেওয়ার দিন আজ। আজ মহালয়া।

পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনার সন্ধিক্ষণই মহালয়া। এই দিন পূর্ব পুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। রামচন্দ্র লঙ্কাজয়ের আগে এমনটা করেছিলেন। সেখান থেকেই আসে তর্পণের ভাবনা। সাত দিনের মাথায় অকাল বোধন।

দুর্গাপূজার মূল উৎসবকাল পাঁচদিন- মহা ষষ্ঠী, মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহা নবমী ও বিজয়া দশমী। বিজয়ার দিনে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ত্যাগ করে ফেরত চলেন। তবে দেবী দুর্গা কবে আসেন মর্ত্যে? এর উত্তরই শুভ মহালয়া। মহালয়া শব্দের আক্ষরিক সমার্থ হলো ‘আনন্দ নিকেতন’। 

দেবী মায়ের আগমনী সুরে আনন্দের বার্তা আসে পৃথিবীজুড়ে। দেবীপক্ষের সূচনাকালেই ধরাধামে আবির্ভূত হন মা দুর্গা। চাঁদের হিসেব অনুসারে দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্বের অমাবস্যার দিনে। এই দিনটিই মহালয়া নামে পরিচিত। যেহেতু চাঁদের হিসেবে প্রতি অর্ধমাসে একবার করে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা হয়, তাই দেবীপক্ষের সমাপ্তি যে পঞ্চদশ দিনে অর্থাৎ পূর্ণিমায়, এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত। সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করে থাকেন। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিন ব্যাপ্তির পূজা হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি হয়।

ইত্তেফাক/অনি