জুয়া বন্ধে দেশে কার্যকর রয়েছে ১৫০ বছরের পুরনো একটি আইন। ঐ আইনে নেই কঠোর শাস্তির বিধান। যে জরিমানা ও দণ্ডের বিধান রয়েছে তা অপ্রতুল। যার কারণে ঐ আইন দ্বারা জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আইনটিকে যুগপোযোগী করার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের। আর সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, এই আইনটি অনেক পুরোনো। এটাকে যুগপোযোগী করার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের।
সম্প্রতি ঢাকায় র্যাবের পরিচালিত অভিযানে বেশ কিছু ক্যাসিনো সিলগালা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েক জনকে। জব্দ করা হয় কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। এই অভিযানের পর দেশব্যাপী জুয়াখেলা ও ক্যাসিনোর বিষয়টি আলোচনায় ওঠে আসে। যদিও পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ম্যাকাও এমনকি নেপালেও জুয়া খেলার স্থান হিসেবে ক্যাসিনোর জনপ্রিয়তা আছে। নানা সময়ে গোপনে জুয়ার আসরের কথা শোনা গেলেও স্লট মেশিন, পোকার সেট, মহজং টেবিলসহ নানা উপকরণসজ্জিত এই ক্যাসিনোগুলোর অস্তিত্ব থাকার তথ্য দেশের জনগণের কাছে নতুন।
বাংলা অ্যাকাডেমি প্রণীত ইংলিশ টু বাংলা ডিকশনারিতে ক্যাসিনো শব্দের অর্থ বলতে জুয়া ও অন্যান্য বিনোদনমূলক ক্রিয়াকলাপের জন্য ব্যবহূত কক্ষ বা ভবন; সর্বসাধারণের জন্য উন্মুুক্ত নৃত্যশালাকে বোঝানো হয়েছে। পুরোনো ঐ আইনে জুয়ার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে, জুয়া খেলা শব্দ দ্বারা জুয়া বা বাজি ধরা বুঝাবে (কেবল ঘোড়দৌড়ের উপর বাজি ধরা ছাড়া) যখন উক্ত জুয়া বাজি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খেলার কাজে ব্যবহূত যে কোনো হাতিয়ার বা সামগ্রী ‘ক্রীড়া সামগ্রী’ শব্দের অন্তর্গত এবং ‘সাধারণ ক্রীড়া ভবন’ অর্থ যে কোনো ঘর, কক্ষ, তাঁবু বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থান, প্রাঙ্গণ বা গাড়ি অথবা যে কোনো স্থানে যেখানে মালিকের রক্ষকের বা ব্যবহারকারীর মুনাফা বা উপার্জনের জন্য যে কোনো ক্রীড়া সামগ্রী বা অন্যকিছু ভাড়া বা অর্থের বিনিময়ে রাখা বা ব্যবহূত হয়। এছাড়া তাস, পাশা, খেলার টেবিল, কাপড়, বোর্ড বা অন্যান্য জুয়ার সামগ্রী পাওয়া গেলে এই আইনে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনে উল্লেখিত স্থানকে জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন ও কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করলে জুয়ারিসহ প্রত্যেককে ২০০ টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ‘ল’ রিপোর্টাস-এর সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, জুয়া খেলা বন্ধে ১৫০ বছরের পুরোনো আইনে দণ্ডের যে পরিমাণ রয়েছে তা অপ্রতুল। যারা জুয়ার অপরাধে লিপ্ত হবে তাদের জন্য এই আইন অপরাধ সংঘটনের জন্য বড়ো আশ্রয়স্থল। এই আইন থেকেও না থাকার মতো। এ কারণে সরকারের উচিত সবধরনের জুয়া খেলা বন্ধে অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর আইন প্রণয়ন করা।
প্রকাশ্য স্থানে পশু-পক্ষীর লড়াই: পুরোনো আইনে কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকাশ্য রাস্তায়, বাজারে, মেলায় বা প্রকাশ্য স্থানে কোনো পশু বা পক্ষীকে লড়াইতে নিয়োজিত করলে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে। এজন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৫০ টাকা জরিমানা ও অনধিক এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে কেবল দৈহিক কসরত দেখাবার জন্য প্রকাশ্য স্থানে কোনো খেলা দেখানো হলে তার উপর এই আইন প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।