নাগেশ্বরীতে ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে পৌরসভার বানিয়াপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে ছকিয়ত উল্লার ছেলে দাদন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মেনা (৫৫) তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুমী বেগম (৩২) ও দেড় বছরের শিশু রিফাতকে পাশের কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করছিলেন। রাতের কোনো এক সময় তাদেরকে হত্যা করে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত খুনিরা। শুক্রবার সকালে শিশুটির কান্না শুনে প্রতিবেশিরা সেখানে গিয়ে তাদের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, নিহত মেনা ও তার স্ত্রী রুমী বেগমের গলার বাম পাশে জখমের চিহ্ন রয়েছে। রুমী বেগমের মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নিহতের বড়োভাই ফজর আলী নাগেশ্বরী থানায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত তারা দুই ভাই একসঙ্গে বাজারে বসে গল্প করেন। পরে তারা দুই জনই নিজেদের বাড়িতে চলে যান। সকালে প্রতিবেশিদের কাছে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তার ভাই মেনা ও ভাই বউ রুমী বেগমের লাশ দেখতে পান। প্রতিবেশিরা তাকে জানিয়েছে, রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে শিশুটি অঝোরে কেঁদে চলে। তারা ধারণা করেছিল শিশুটির বাবা-মা হয়তো কোনো কারণে তাকে বকাঝকা করায় সে কাঁদছে। কিন্তু সকাল পর্যন্ত তার কান্না না থামায় প্রতিবেশিরা খোঁজ নিতে যায়। তখন তারা দেখতে পায় এক কক্ষে টেবিলে মুখথুবড়ে পড়ে আছে মেনা ও পাশের কক্ষে বিছানায় রুমীর নিথর দেহ। মায়ের মরদেহের পাশে বসে কাঁদছে শিশুটি। খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে ছুটে যান প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা। তারা একই গ্রামের অপরপ্রান্তে অন্য একটি বাড়িতে বসবাস করে।
নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।