জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিভাগের সভাপতি বরাবর ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠিয়েছেন সভাপতি। তবে উক্ত সেলের প্রধানের কাছ থেকে সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের সভাপতি বরাবর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী। অভিযোগপত্রে ঐ ছাত্রী জানান, ২০১৮ সালে তিনি তৃতীয় পর্বের একটি কোর্সের মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কোর্স শিক্ষক সানওয়ার সিরাজের শরণাপন্ন হন। সে সময় সানওয়ার সিরাজ তার ফোন নম্বর নেন এবং যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ করতে বলেন। পরদিন শিক্ষক নিজেই তাকে ফোন করে পরীক্ষা কেমন হয়েছে জানতে চান এবং ঐদিন রাতে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে ঘোরাফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঐ ছাত্রী আরো বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ঐ শিক্ষক আমাকে উপহার, রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ও স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বাসায় রাত যাপনের প্রস্তাব দেন। ব্যর্থ হয়ে ঐ শিক্ষক তার কোর্সে কম নম্বর দেন। পরে তিনি ধারাবাহিক অত্যাচারে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।
সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী বলেন, এর আগে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার যৌন নিপীড়নের হুমকির মুখে সেই সেলে অভিযোগ করেছিলাম। সেই অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে গেলে সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতারের কাছে আমি নিপীড়িত হই। তিনি আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আমার প্রমাণাদি গ্রহণ করেননি। এছাড়াও সেই অভিযোগের কোনো বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।
এবিষয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পারিবারিক কাজে ব্যস্ত আছি। তোমার সঙ্গে রবিবার কথা বলব। তবে পৃথক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এটা তার ধারণাপ্রসূত বিষয়। এই কমিটিতে শুধুু আমিই থাকছি না। বরং আরো ছয়জন সদস্য আছেন। তদন্তের মাধ্যমে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।