চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনে ব্যস্ত প্রার্থীরা

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা। গতকাল প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা পোস্টার ও ব্যানার ছাপানো শুরু করেছেন। তবে প্রচারণা শুরুর আগে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দলের মধ্যে বিরোধ, গ্রুপিং নিরসন করে বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায় দিনে-রাতে ব্যস্ত রয়েছেন উভয় দলের প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন যাবত্ যাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি হয়নি, তারা এখন নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিরসনে একত্রে বসছেন। চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ২৮০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

দু’দলেই প্রতিটি আসনে ব্যাপক গ্রুপিং রয়েছে। কেউ কাউকে সুযোগ দিতে নারাজ। মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশি হওয়ায় গ্রুপিং বেশি। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঘিরে কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও বিরোধ রয়েছে। 

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬টি আসনে দলের পক্ষে বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ইতোমধ্যে সকল প্রার্থীকে নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। সকল পর্যায়ে বিরোধ নিরসন করতে আসন কেন্দ্রিক অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করছেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিবুল হাসান নওফেলের পক্ষে প্রতিদিন ওয়ার্ডভিত্তিক সভা হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের এই আসনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী বেশি ছিলেন। ফলে দলীয়ভাবে গ্রুপিং রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে সাংগঠনিকভাবে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সকল গ্রুপের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই আসনে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী। এই আসনে জামায়াতের সাবেক দুই এমপির মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় অপরজন ক্ষুব্ধ। তবে জামায়াতের প্রার্থী এখনো জেলে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী বর্তমানে জেলে রয়েছেন। এই আসনেও বিএনপির মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে তার অনুসারীরা ঘরোয়াভাবে বৈঠক করে চলেছেন। চট্টগ্রাম-১২(পটিয়া) আসনে বিএনপির মধ্যে ৩/৪টি গ্রুপ রয়েছে। এবার নতুন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। গত দু’বার নির্বাচিত এমপিকে এবার বিএনপি প্রার্থী করেনি। ক্ষুব্ধ সাবেক ঐ এমপি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আওয়ামী লীগের মধ্যেও ব্যাপক গ্রুপিং রয়েছে। দলের কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিপক্ষরা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।