এনসিএলে ভালোমানের বল চান শরীফ

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) মাঠে গড়াবে অক্টোবরের শুরুতে। লিগ শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৮ অক্টোবর। এনসিএলকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেন একঝাঁক ক্রিকেটার। এনসিএলের প্রস্তুতির জন্য নিজেদের উদ্যোগেই মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন এসব ক্রিকেটাররা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই বলে এনসিএলের প্রতিই এখন সবার নজর। সেখানেই উঠে আসছে দেশের প্রধান প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা এনসিএলকে ঘিরে ক্রিকেটারদের চিন্তাভাবনা ও অভিযোগের কথা।

গতকাল যেমন অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শরীফ বলেছেন, এনসিএলের ব্যবহূত বল ভালোমানের নয়। এই বল দিয়ে খেলে বোলার-ব্যাটসম্যান কারোই প্রত্যাশিত উন্নতি হয় না। পাঁচ-ছয় ওভার পরই বদলাতে হয় বল। তাই স্পোর্টিং উইকেটের পাশাপাশি এনসিএলে ভালোমানের বল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শরীফ।

২০০০-২০০১ মৌসুম থেকে এনসিএল খেলছেন শরীফ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩২ ম্যাচ খেলে ৩৯৩ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। এই ফরম্যাটে ৩০০ উইকেটও নেই দেশের আর কোনো পেস বোলারের।

লম্বা ক্যারিয়ারে এনসিএলের খুঁটিনাটিও জানা শরীফের। ৩৩ বছর বয়সি এই পেসার গতকাল তুলে ধরেছেন বলের সমস্যার বিষয়টি। গত কয়েক মৌসুম ধরে যেটি ভোগাচ্ছে ক্রিকেটারদের। বিসিবি একাডেমি মাঠে গতকাল শরীফ বলেছেন, ‘একটা কথা বলা ঠিক হবে কি না জানি না, তবু বলা জরুরি। বল যেন ভালো হয়। বলের মান খুব গুরুত্বপূর্ণ। বল অনেক সময়ই খুব দ্রুত সফট হয়ে যায়। এমনিতেই উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকে না। তারপর বলও সফট হলে বোলারদের কিছু করার থাকে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই-তিন বছরে অনেকবার এরকম হয়েছে, চার-পাঁচ ওভারের মধ্যে নতুন বল বদলাতে হচ্ছে। বলের মান সেখান থেকেই বোঝা যায়। এদিকটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।’

দেশের মাটিতে বাংলাদেশ সাধারণত টেস্ট খেলে এসজি বলে। এনসিএলেও এসজি বল ব্যবহূত হয়। কিন্তু সেটির মানে পার্থক্য থাকে। গতকাল শরীফ বলেছেন, ‘এসজি বলেই খেলা হয়। কিন্তু সেটি সেরা মানের কিংবা গ্রেড ওয়ান কি না, আমরা জানি না। হতে পারে গ্রেড ওয়ান। কিন্তু অনেক সময় আমরা ভালো বলটি নাও পেতে পারি। পুরোনো হয়ে যেতে পারে। এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে। বল ভালো থাকলে, উইকেট একটু শুষ্ক থাকলেও মানিয়ে নেওয়া যায়।’

বলের মানে পার্থক্য ক্রিকেটারদের খেলায়ও প্রভাব ফেলে। ১০ টেস্ট, ৯ ওয়ানডে খেলা শরীফ বলেছেন, ‘বল এত দ্রুত নরম হয়ে যায় যে পেসারদের সু্ইং-বাউন্স তো থাকেই না, স্পিনারদেরও ধার থাকে না। ব্যাটসম্যানরা আরামে খেলে। বল কিছুই করে না, সোজা আসে। দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরি করে ভাসিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে আসলে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিই হতে হয়নি!’

জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরেক পেসারের কণ্ঠেও পাওয়া গেলো একই সুর। এনসিএলের বলের মান সম্পর্কে ঐ পেসার গতকাল বলেছেন।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমরা আন্তর্জাতিকে যে বলে খেলি, আর আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে যে বলে খেলি, দুই বলের মধ্যে পার্থক্য আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যে বলে খেলি, এগুলোর মান এত ভালো না। জাতীয় দলে যখন খেলি তখন বলটা সুন্দর থাকে, সিম সুন্দর থাকে, বলটা অনেক টাইট থাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেগুলো দিয়ে খেলা হয়, দেখা যায় চার-পাঁচ ওভার পর সিমটা নষ্ট হয়ে যায়। এসজি বলটা অত মেইনটেইন করা যায় না।’