স্পোর্টস রিপোর্টার
তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রের মতোই জীবন তার। সেই জীবনের চক্রটা একটু পূর্ণতা পেলো অবশেষে। আরেকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটে ফিরে এলেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এইচসিএ) নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন আজহার ও তার প্যানেলের সদস্যরা। আজহার এখন এইচসিএ-এর নতুন প্রেসিডেন্ট। এই পদে নির্বাচিত হওয়ার পরই শৈল্পিক ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ এই সাবেক ব্যাটসম্যান বলেছেন, তার মাথায় এখন তিনটি মাত্র শব্দ ঘুরছে, ‘আমার মাথায় এখন তিনটি শব্দ কাজ করছে—ক্রিকেট, ক্রিকেট ও ক্রিকেট।’
সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক আজহার বলছেন, হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজানোর কাজ করবেন এখন তারা। আর এই পথে যা করণীয় আছে, তার সবকিছুই করতে চান তিনি। সাবেক এই সংসদ সদস্য ২০১৭ সালেই এইচসিএ সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সেবারের মনোনয়নপত্র নির্বাচনী কর্মকর্তা বাতিল করে দেন। কারণ হিসেবে সেই কর্মকর্তা বলেছিলেন, ২০০০ সালে ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে আজাহারউদ্দিনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো ক্রিকেটে। আসলে ২০১২ সালে অন্ধ্র প্রদেশের উচ্চ আদালত তার আজীবন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল। এবার সেই মামলার রায়ের ফলেই আজহারের মনোনয়ন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।
ডেকান ক্রনিকেল পত্রিকাকে আজহার বলেছেন, তিনি ও তার দল এখন হায়দরাবাদের ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে চান। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের জন্য আরেকবার কাজ করার যাত্রা শুরু হলো তার, ‘আমাদের এখন সবকিছু পুনর্গঠিত করতে হবে এবং সবকিছু সচল করতে হবে। এক জিমখানা মাঠের দিকেই দেখুন। ওটা এখন গরু চরানোর জায়গা আর গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে এবং প্রতিভা তুলে আনতে হবে।’
আজহার মনে করেন, এইচসিএ-এর সদস্যরা ভোট দিয়ে তাদের কাজ করেছেন। এবার আজহারদের কাজ শুরু করার পালা, ‘সদস্যরা তাদের কাজ করেছেন; আমার কাজ এখন শুরু হবে। আমি জানি, কাজটা সোজা হবে না। তবে আমি এখানে খেলাকে ফেরাতে আমার সর্বোচ্চ ঢেলে দেব। গত তিন বছরে খেলাধুলা এখানে অনেক ভুগেছে। আমরা সব ক্লাবের কাছে সমর্থন চাইব এবং খেলাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। তাদের (ক্লাবগুলোর) এবং ক্রীড়া উত্সাহীদের প্রতিটা পরামর্শ এখানে স্বাগত জানানোর চেয়েও বেশি কিছু করা হবে।’
২০০০ সালে আজীবন নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আর কখনো ক্রিকেটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিলেন না আজহার। ২০০৯ সালে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। শুরুতে আজীবন নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর ২০১২ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা উচ্চ আদালত প্রত্যাহার করেন। আজহার এই বিজয়ের পর বলেছেন, ১৯৮৪-৮৫ সালে টেস্ট অভিষেকের মতোই একটু নার্ভাস তিনি, ‘সামান্য একটু নার্ভাস। সেই সময় আমি প্রায় ১৫ বছর কঠোর পরিশ্রম করেছি ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য। ফলে প্রথম টেস্ট খেলার আগে একটু নার্ভাস ছিলাম। এখানেই আমরা একটা দল হিসেবে এই জয়ের জন্য প্রচারণা চালিয়েছি এবং কঠোর পরিশ্রম করেছি। নির্বাচনেও খেলার মতো টানটান উত্তেজনা থাকে। কারণ এখানেও যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।’