পরিবহন ব্যবসার আড়ালে চলছে ইয়াবা পাচার

পরিবহন ব্যবসার আড়ালে চলছে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার ব্যবসা। যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, মিনি ট্রাকের সাহায্যে ইয়াবার বড়ো বড়ো চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই পণ্যবাহী পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহন মাদকের চালান ধরা পড়ছে। কক্সবাজার থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে সারাদেশে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি নগরীর দেওয়ানহাট এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ফেলে দেওয়া ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। ইয়াবাগুলো চট্টগ্রাম থেকে কাভার্ড ভ্যানে করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে পড়ায় নিয়মিত অভিযান চালিয়েও ইয়াবা পাচার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। চাহিদার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড়ো বড়ো চালান দেশে নিয়ে আসছে। জানা গেছে, টেকনাফে একটি ইয়াবা বড়ি ৫০-৭০ টাকা কেনাবেচা হয় যা চট্টগ্রামে আসার পর বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০-৩০০ টাকা। এরপর ঢাকায় আরেক দফা বেড়ে ইয়াবার দাম হয় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ইয়াবার পরিবহন খরচ নির্ধারণ করা হয় সংখ্যার ভিত্তিতে। এক পিস ইয়াবা চট্টগ্রামে আনতে নেওয়া হয় ৪ থেকে ৫ টাকা। এই হিসেবে ১ লাখ ইয়াবা বড়ি টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে আনতে নেওয়া হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। ইয়াবা পরিবহনের লেনদেন নগদে নেওয়া হয় না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। জানা যায়, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এই নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তারা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছে। কক্সবাজারে অনেক বড়ো         বড়ো ইয়াবা ব্যবসায়ী প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও ইয়াবা ব্যবসার রাশ টেনে ধরা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যদের যোগসাজশ থাকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চলতি বছর চট্টগ্রামে ৩ পুলিশ সদস্য এবং গত বছর ৭ পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছু অসত্ পুলিশ শাস্তির তোয়াক্কা না করেই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতে যাচ্ছে চালান :প্রায় এক মাস আগে চট্টগ্রাম নগরীতে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ৪০ হাজার ইয়াবাভর্তি বস্তা নিচের রাস্তায় ফেলে দেওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কাভার্ড ভ্যান চালক জয়নাল আবেদিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা নিয়ে ফ্লাইওভার অতিক্রমের সময় একটি মাইক্রোবাস তাদের সামনে এসে থামার সংকেত দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভেবে তিনি ইয়াবাগুলো ফেলে দেন। ইয়াবাগুলো ঐ কাভার্ড ভ্যানের মালিকের নির্দেশে ভারতে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, জয়নাল ও তার ছেলে আবদুল্লাহ বেনাপোল এলাকার জনৈক হযরত আলীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছামিয়া এন্টারপ্রাইজের কাভার্ড ভ্যান চালান। গত রমজান মাসে হযরত আলীর নির্দেশে জয়নাল ও তার ছেলে নগরীর সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকায় জনৈক শাহীনের কাছ থেকে তিন দফায় ইয়াবার চালান নিয়ে হযরত আলীকে দেন। প্রতি চালানের জন্য হযরত আলী তাকে ২০ হাজার টাকা করে দেন। ওসি আরো জানান, জয়নাল গাড়ি নিয়ে আবারও মালামাল নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে আসার পর আমরা তাকে আটক করেছি।