মুলাদীতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ!

বরিশালের মুলাদীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগের সনদ দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছেন প্রধান শিক্ষক। ফলে ঐ ছাত্রী কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারায় এক বছর ধরে লেখাপড়া বন্ধ। এর মধ্যে ঐ ছাত্রী দুই-তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

জানা গেছে, উপজেলার চরকালেখান আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জাহাঙ্গীর আলম তার বিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।  ভুক্তভোগী ছাত্রী পড়ালেখা করতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। মেয়েকে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ছাত্রীর পিতা জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জাহাঙ্গীর আলম ঐ মেয়ের চারিত্রিক অবক্ষয়ের অভিযোগ এনে প্রথমে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং পরে চারিত্রিক অবক্ষয় উল্লেখ করে বিদ্যালয় থেকে স্থানান্তর প্রত্যয়নপত্র দেন। কিন্তু স্থানান্তরপত্রে আপত্তিকর শব্দ উল্লেখ থাকায় ছাত্রীকে কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করা যাচ্ছে না।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তে বরিশাল জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেন। জেলা প্রশাসক তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন ঢালী তদন্ত কাজ শুরু করেন। তবে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রীকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের সনদ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঐ ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে এক সহপাঠিকে জড়িয়ে কিস করায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ঐ ছাত্রী বর্তমানে লেখাপড়া বন্ধ করে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার জানান, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।