মোজাহেদুল ইসলাম
আপনি যদি নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন আপনি কয়েক ঘণ্টা করে ফোন ব্যবহার করছেন। দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করলে আপনার হতে পারে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। হাতের কবজিতে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথার মতো সমস্যাগুলো ঘটতে পারে প্রতিনিয়ত। এ ধরনের সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পেতে পারেন, যদি আপনি কয়েকি বিষয়ে সতর্ক থাকেন। পাঠকদের সুবিধার্থে এমন কয়েকটি বিষয় এ লেখায় তুলে ধরা হলো—
হাত ও ঘাড়ে ব্যথা
বিভিন্ন ধরনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কিছুক্ষণের জন্য হাত থেকে স্মার্টফোনটি সরিয়ে রাখুন, তারপর কিছু বেসিক ব্যায়াম শুরু করুন। যেমন আপনার হাতের তালুটি কোনো ফ্ল্যাট সার্ফেসের ওপরে রাখুন, তারপর অন্য হাতের সাহায্যে আপনার আঙুলগুলো পেছনের দিকে বাঁকিয়ে নিয়ে আসুন যতটা সম্ভব হয়। এই প্রসেস প্রতিটি আঙুলের জন্য অ্যাপ্লাই করতে থাকুন! তারপর আপনার এক হাতের তালুর সঙ্গে আরেক হাতের তালু চেপে ধরুন, মানে প্রার্থনা করার সময় যে পজিশন করা হয়। এবার এক হাতের তালু অপর হাতের তালুর ওপরে প্রেসার তৈরি করুন, এভাবে কিছুক্ষণ চালিয়ে যান। আরেকটি আঙুলের ব্যায়ম হচ্ছে, হাতের আঙুলগুলোকে টানুন, অনেকে একে আঙুল ফোটানো বলে থাকে। কেননা, এতে আঙুলের জোরা থেকে পটপট করে শব্দ শোনা যায়।
এবার আসি ঘাড়ের কিছু বেসিক ব্যায়াম নিয়ে। আসতে আসতে আপনার মাথা ডানে, বামে, ওপরে, নিচে করে ঘোরাতে থাকুন। তারপর মাথা ক্লকওয়াইজ ও এন্টিক্লকওয়াইজ দিকে ঘোরাতে থাকুন। এই প্রসেসটি কমপক্ষে পাঁচবার রিপিট করুন। আর হ্যাঁ বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম, হাতের কবজি ও আঙুলের ব্যায়ামের জন্য স্ট্রেস বল গুলো কিনতে পারেন এবং সেটা কয়েক ডজনবার দিনে চাপাচাপি করতে পারেন। এটা ভালো কাজ দেয়।
টাইপিংয়ে সতর্কতা
বেশির ভাগ ব্যবহারকারী বিশেষ করে প্রভাবসহকারে ফোন ধরা ও টাইপ করায় অভ্যস্ত হয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি যে হাতে ফোন ব্যবহার করেন, সেই হাতের বুড়ো আঙুলকে বেশ খাটতে হয়, কারণ সব টাইপিং প্রায় সে-ই করে থাকে। এই সমস্যা দূর করার জন্য টাইপিংয়ের সময় দুই হাত ব্যবহার করা ভালো।
যখন দুই হাত ব্যবহার করবেন, টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে তখন কাজ দুজনের সঙ্গে শেয়ার হয়ে যাবে, এতে স্ট্রেস কম পড়বে। সঙ্গে কখনো কখনো চাইলে স্টাইলাস বা পেন ব্যবহার করে টাইপিং করে আঙুলকে রেস্ট দিতে পারেন। তাছাড়া আপনি চালে ‘swiping’ ফিচার ব্যবহার করেও টাইপিং করতে পারেন। এই স্টাইলে টাইপিং করা অনেক ফাস্ট। আর বেশির ভাগ জনপ্রিয় কিবোর্ডই এই ফিচার সাপোর্ট করে।
স্মার্ট পদ্ধতিতে টাইপ করুন
স্মার্টফোনের মজাই হচ্ছে, এতে সব স্মার্ট ফিচার যুক্ত রয়েছে। আপনি ফোনের স্পিস টু টেক্সট অপশন ব্যবহার করে সহজেই টাইপ করতে পারেন, তা-ও আবার একটুও আঙুল না সরিয়ে। এই ফিচার ফোনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস কাজে লাগিয়ে কাজ করে। আপনার কথা থেকে কম্যান্ড গ্রহণ করে তারপর ফোনের সফটওয়্যার সেটাকে টেক্সটে পরিণত করে। আপনি জাস্ট বলেই যাবেন, আর আপনার ফোন লেখেই যাবে, এতে আঙুল ব্যথা করে আর টাইপ করতে হবে না। টেক্সটের ফাঁকে ফাঁকে ইমোজি ব্যবহার করার মাধ্যমে বাক্যগুলোকে শর্ট বানানো সম্ভব। এতে একে তো সময় বেঁচে যাবে, দ্বিতীয়ত হাতের ওপরে চাপ কমে যাবে।
ইয়ারফোন বা স্পিকার ব্যবহার করা
বিজনেসম্যান থেকে শুরু করে প্রেমিকম্যান সবাইকেই ফোনে অনেক কথা বলতে হয় আর লংটাইম ধরে চলে এই ফোন কনভারসেশন। তো দীর্ঘ সময় ধরে কানে ফোন ধরে রাখতে একে তো হাতের বারোটা বাজে, দ্বিতীয়ত ঘাড়েরও সমস্যা তৈরি হয়। যদি লম্বা সময় ধরে ফোনে কথা বলেন এবং এটা রেগুলারই করতে হয়, সেক্ষেত্রে ইয়ারফোন বা স্পিকার ব্যবহার করে কল করতে পারেন।
প্রাইভেট কনভারসেশনে স্পিকার ব্যবহার করা মোটেও আইডিয়াল হবে না যদিও, তবে বেশিক্ষণ ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে রাখলেও কান ব্যথা করতে পারে। তবে বেশি কথা বললে অনেক সময় ফোন ওভারহিট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ইয়ারফোন ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
মনে রাখা ভালো, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা ভালো। আগে শুধু প্রয়োজনে সবাই ফোন ব্যবহার করত, কিন্তু বর্তমানে কী কারণে সবাই ফোন ব্যবহার করে, সেটা আন্দাজ করতে পারেন? আপনি স্মার্টফোনের ওপর যত বেশি নির্ভরশীল হবেন, আপনার হাতের আঙুলের ব্যথা, কবজির ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা ততই বাড়বে।