মহাসড়কে টোল আদায়

বাংলাদেশে এতদিন অবধি কেবল সেতু পারাপার আর কোনো কোনো উড়াল সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে এইবার ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রংপুর—এই চার মহাসড়কে সরকার টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করিয়াছে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের আওতাধীন সড়ক-মহাসড়ক বিভাগ। আদায়কৃত টোলের টাকা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় করা হইবে বলিয়া জানা গিয়াছে। 

মহাসড়কে টোল আদায় লইয়া পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত রহিয়াছে। টোল নির্ধারণের ফলে একদিকে সাধারণভাবে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িবে, অন্যদিকে যেই সকল সড়ক বেশি ব্যবহূত হয়, সেইগুলির মেরামতের দরকারও বেশি হয় বিধায় টোলের আদায়কৃত অর্থ হইতে সেই ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে সহজেই। তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হইবে সর্বাধিক। কারণ সংশ্লিষ্ট খাতের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সরকারের টাকার অভাবে এই সকল সড়ক যথাযথ সময়ে মেরামত করা হইতেছে না, তাহা নহে। বরং আসল সমস্যা হইতেছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব। ইহা ঠিক যে, চারটি জাতীয় মহাসড়কের টোল সরকারের রাজস্ব আয়ের ভালো উত্স হইতে পারে। কিন্তু ইহার জন্য যেই সকল জটিলতার কথা বলা হইতেছে তাহাও গুরুত্বের সহিত বিবেচনায় আনিতে হইবে। যেমন সংশ্লিষ্ট মহাসড়কে টোল প্রদানের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ী দ্রুত পণ্য পাঠাইবার সুযোগ পাইলে তাহার জন্য অতিরিক্ত খরচও অর্থপূর্ণ হইবে। কিন্তু টাকা খরচ করিয়াও যদি কোনো ব্যবসায়ী নূতন কোনো সুবিধা না পান, তাহা হইলে তাহার প্রভাব ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও কমবেশি পড়িবে। এই ক্ষেত্রে অনেকেই এই অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, টোল প্রদানে আপত্তি নাই, তবে ভালো সড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করিতে হইবে। অর্থাত্ সড়কগুলি যুগোপযোগী করিতে হইবে, দুর্ঘটনা প্রতিহতের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। যদিও কোনো কোনো সড়ক ও পরিবহন গবেষক মনে করেন, আমাদের মহাসড়কগুলি টোল আদায়ের জন্য উপযুক্ত নহে। কারণ যেই সকল মহাসড়কে টোল তোলা হয় সেইখানে যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হইতে হয়। একইসঙ্গে যেই সকল মহাসড়কে টোল তোলা হয় সেইখানে পাশাপাশি দুই স্তরের রাস্তা থাকিতে হয়। আমাদের দেশে তাহা নাই, ফলে ভোগান্তি বাড়িবে। কোনো সড়কে টোল নেওয়া হইলে কেহ যদি টোল না দিয়া যাইতে চাহেন তাহার জন্য বিকল্প সড়কের ব্যবস্থাও থাকিতে হয়। সারা বিশ্বেই ইহা রহিয়াছে। স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, যাহারা উন্নত সড়কটি ব্যবহার করিবেন, তাহারা বিশেষ সুবিধা পাইবেন। আর টোল প্রদান করিবেনও এই কারণে।

মনে রাখিতে হইবে, টোল যাহাই বসানো হউক না কেন, শেষাবধি তাহা কিন্তু প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সাধারণ জনগণের ঘাড়েই চাপিবে। এমনিতেই মহাসড়কগুলিতে যানজটের কারণে গাড়ি ঠিকমতো চলিতে পারে না। ইহার মধ্যে টোলঘর বসাইলে প্রতিবন্ধকতা আরো বাড়িতে পারে। সুতরাং ট্রায়াল এবং এররের মাধ্যমে এই সকল বিষয়ের সুরাহা এবং সুব্যবস্থাপনা কাম্য।