বাস, ট্রেন, লঞ্চ—সব জায়গায় যাত্রীদের দ্বারা কিছু না কিছু বর্জ্য তৈরি হয়। কিছু পচনশীল কিছু অপচনশীল। পচনশীল বর্জ্য পচে মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু অপচনশীল বর্জ্য পরিবেশের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকরে। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, লঞ্চের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ভাবা যায়! শতাধিক লঞ্চ প্রতিদিন ঢাকা আসে। ঢাকা ছেড়ে অন্য গন্তব্যে যায়। হাজার হাজার টন বর্জ্য প্রতিদিন নদীতে ফেলা হচ্ছে। অথচ আমরা একটু পরিবেশ সচেতন হলে এই বর্জ্য লঞ্চের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা যায়। যা লঞ্চ পাড়ে ভিড়লে ডাস্টবিনে ফেলা দেওয়া সম্ভব। এই সামান্য কাজটুকু কেউ করছে না। চোখের সামনে ভয়ংকরভাবে নদী দূষণ করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলে নদীদূষণের চেয়ে ভয়ংকর আর কী হতে পারে! ট্রেনের অবস্থা একই রকম। ঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ নেই। যানবাহনগুলোর বর্জ্য জায়গামতো ফেলা হলে পরিবেশ বড়ো ধরনের ক্ষতি থেকে বেঁচে যাবে। এমনও দেখা গেছে, লঞ্চ-যাত্রীদের মলমূত্র সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এসব দেখার কেউ নেই! বর্জ্য নিদিষ্ট স্থানে ফেলতে যানবাহন কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকার কথা নয়। শুধু দরকার তাদের বোঝানো। তাদেরকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেওয়া। এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন, সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়, নৌমন্ত্রণালয় আশু প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বানারীপাড়া, বরিশাল ৮৫৩০