একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য বরাদ্দের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা চেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৬টি বাহিনী পৃথকভাবে ৯৮৫ কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছে। নির্বাচনে মোট বাজেটের সিংহভাগ এবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য রাখা হয়েছিল। ৭০২ কোটি টাকার মধ্যে ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। আর নির্বাচন পরিচালনা খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩০২ কোটি টাকা। বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। এ দিকে নির্বাচনে ১০ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে মাঠে থাকবে সেনা সদস্যরা।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিগুণ চাহিদা দেওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পৃথকভাবে অতিরিক্ত দুদিনের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। তাদের দাবি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের জন্য আসা এবং যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ প্রয়োজন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্বশস্ত্র বাহিনীসহ বাকি ৫টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শুধু পুলিশ থেকে এবার ৪২৪ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আনসার-ভিডিপি থেকে ৩৮১ কোটি টাকা, বিজিবি থেকে ৭২ কোটি টাকা, র্যাব থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং কোস্টগার্ড থেকে ৮ কোটি টাকার চাহিদা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর বাইরে সেনাবাহিনীর জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আনসার-ভিডিপির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮০ কোটি টাকার মতো। জনপ্রতি ৫০০ টাকা হিসেবে এ বরাদ্দ রাখা হয়।
গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে র্যাব, আনসার-ভিডিপি ও কোস্টগার্ডের শীর্ষ ব্যক্তিরা নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে মোট ৩৮১ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এতে সম্মত হয়নি। পুলিশের চাহিদা ৪২৪ কোটি টাকা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাতদিন নির্বাচনের মাঠে থাকলে সাতদিন নয় ১১ দিনের খরচ দিতে হবে। কারণ মাঠ থেকে ফিরে আসতেও দু-তিন দিন লাগবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনে একদিনের খরচ বাড়লে ৬৫ কোটি টাকা খরচ বাড়ে। এমতাবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা পূরণ করতে গেলে নির্বাচনী বাজেট ১ হাজার ৩শ কোটি টাকাতে কুলাবে না।
কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল তিন হাজার টাকা করে। এবার তা চার হাজার টাকা করা হয়েছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল দুই হাজার টাকা করে। এবার করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। পোলিং অফিসারদের ভাতা ছিল দেড় হাজার হাজার টাকা করে। এবার তা দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।
সেনা থাকবে ১০ দিন
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট (সংযোগস্থল) এবং সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থান করবেন। রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে তারা অন্য প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করবে। রিটার্নিং বা প্রিজাইডিং অফিসার না চাইলে তারা ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনা কক্ষে যাবেন না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও একইভাবে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন করেছিল ইসি। তবে ২০০৮ সালে নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়।