ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে তিতাসের পরিত্যক্ত কূপের গ্যাস চুরি করে বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট! উপজেলার বাকাইলসহ আশপাশের এলাকায় বাসা-বাড়িসহ ছোটো ও মাঝারি শিল্প-কারখানাতে অবৈধভাবে এই গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। স্থানীয় পাঁচ-সাতটি গ্রামে অনেকটা প্রকাশ্যেই এই গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিকের সাধারণ পাইপে সরবরাহ করায় এই গ্যাস ব্যবহারে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বড়ো ধরনের অভিযান চালানো হবে।
সরজমিন দেখা গেছে, সদর উপজেলার বাকাইল ও আশপাশের গ্রামের সড়কের পাশ দিয়ে গাছের ডালে, বাসা-বাড়ির ওপর দিয়ে পাইপের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ইন্টারনেট অথবা ক্যাবল লাইনের সংযোগ। জানা গেছে, ২০০৮ সালে তিতাস গ্যাস ফিল্ড তাদের ৩ নম্বর কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এর পর থেকেই বাকাইল, শ্যামপুর ও আনন্দপুরসহ আশপাশ এলাকার মাটির নিচে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এসব গ্যাস মাটি, নদী, খালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উদিগরণ হতে থাকে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নলকূপে ব্যবহূত পাইপের মাধ্যমে নানা কৌশলে গ্যাস উত্তোলন করে অবৈধভাবে তা বিক্রি করা শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে এই পন্থায় গ্যাস উত্তোলন ও বিক্রি চলছে।
গ্যাস ব্যবহারকারী স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন জমি থেকে কলের পাইপ বসিয়ে বাসা-বাড়িতে সংযোগ দিচ্ছে। আর এতে তারা চুলা প্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। পুরো এলাকায় এমন কয়েক হাজার সংযোগ রয়েছে। এছাড়া মাঝারি কিছু শিল্প-কারখানা যেমন পাথর গলিয়ে চুন করার জন্য এ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এই গ্যাস ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজকর্ম করলেও সরকারিভাবে যেহেতু সংযোগ দেওয়া হয়নি সেজন্য এ গ্যাসকে আমরা অবৈধ গ্যাস বলে থাকি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তা-ঘাটসহ বসতবাড়ির আশপাশে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে যেভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট থেকে পাথর এনে চুন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেশ কিছু কারখানা তৈরি করেছেন। এই অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে সেখানে চুন তৈরি করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের হোতারা এসব কারখানার মালিকের কাছ থেকে গ্যাস বিক্রি বাবদ লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। তাদের কয়েকজন বর্তমানে কোটি টাকার মালিক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় চুন ফ্যাক্টরির মালিক বাবু মিয়া বলেন, তারা মাটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে তা ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাহিদুর রেজা বলেন, ওপরের নির্দেশ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, যারা এ অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়েছি। আগামী দিনে আরো বড়ো ধরনের অভিযান পরিচালনা করব।