গাজীপুরে পূজামণ্ডপে প্রতিমায় রং করার কাজও প্রায় শেষ

আগামী ৪ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। এ বছর গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪০৫টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এসব পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। প্রতিমা তৈরিতে এরই মধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমার রংতুলির শেষ পর্যায়ের কাজ। কারিগররা রংতুলির আঁচড়ে মূর্ত করে তুলবেন দশভুজা দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। দেবী দুর্গাকে বরণ করতে জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি। ৪ অক্টোবর শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ৮ অক্টোবর উত্সবের সমাপ্তি ঘটবে।

জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, এ বছর সিটিসহ জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৪০৫টি পূজামণ্ডপে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০০টি, জয়দেবপুর থানায় ২৫টি, কালীগঞ্জে ৪৭টি, কাপাসিয়ায় ৫৮টি, কালিয়াকৈরে ১১৯টি ও শ্রীপুর উপজেলায় ৫৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শ্রমিক কলোনিতে স্থাপিত পূজামণ্ডপের প্রতিমাগুলোতে তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন কারিগররা। ঐ মণ্ডপ কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ দে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও সরকার থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, বিভিন্ন উপজেলায় স্থাপিত পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা বিধানে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে এবার অধিক নজরদারি রাখা হবে।