বিপ টেস্টে ফেল করেছেন আশরাফুল-নাসিররা

আবার সুযোগ পাবেন খেলোয়াড়েরা

 স্পোর্টস রিপোর্টার

এবার জাতীয় লিগের আগে বিপ টেস্ট নিয়ে একটা উত্কণ্ঠা ছিল খেলোয়াড়দের মধ্যে। গত বছর পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জন্য এই টেস্ট উত্রানোর স্কোর ছিল ৯। এবার কোচের পরামর্শে নির্বাচকেরা সেই স্কোর এক লাফে ১১তে নিয়ে গেছেন। ফলে বিশেষ করে সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা শঙ্কা ছিল যে তারা পারবেন কি না।

যদিও খুব প্রাণোচ্ছল পরিবেশে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে ঢাকার বিপ টেস্ট অনুষ্ঠিত হলো। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ভেন্যুগুলোতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে টেস্ট। বেশ কিছু তারকা খেলোয়াড় ১১ স্পর্শ করতে পারেননি। আবার সিনিয়র অনেক খেলোয়াড় ১১ পার করে ফেলেছেন অনায়াসে। শাহরিয়ার নাফীস ১১.২ স্কোর করেছেন। আবার মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির হোসেনরা দশই স্পর্শ করতে পারেননি।

তবে এই ফলাফলেই খেলোয়াড়দের হতাশ হয়ে পড়ার কিছু নেই। নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, তারা ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবেন না। তবে যে খেলোয়াড়েরা পাশ করতে পারেননি, তাদের জন্য আরো এক বা একাধিক সুযোগ থাকবে। তারা ১১ স্কোর করতে পারলেই দলে সুযোগ পাবেন।

শাহরিয়ার নাফীস, সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাঈম ইসলাম, জুনায়েদ সিদ্দিকীর মতো সিনিয়ররা পাশ করে গেছেন। অন্যদিকে আব্দুর রাজ্জাক ৯.৬, মোহাম্মদ আশরাফুল ৯.৭, নাসির হোসেন ৯.৬ স্কোর করতে পেরেছেন। সব মিলিয়ে এই পরীক্ষা পরিচালনা করা বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার সন্তুষ্ট খেলোয়াড়দের ফিটনেসে, ‘সবার গড় স্কোর যদি বলি, তাহলে সেটি দশের বেশি। আমার মনে হয়, খুব খারাপ নয়। সত্যি বলতে, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে অনেকে। ফিটনেস নিয়ে সবার আগ্রহ ও সচেতনতা বেড়েছে, এটা আশার কথা।’

ফিটনেস টেস্টের প্রাথমিক ফলাফল সফল হয়েছে বলেই বলছিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘আলোচনা একটু বেশি হয়েছে হয়তো, যেহেতু লেভেলটা বাড়ানো হয়েছে বলে। কিন্তু আমার মনে হয়, যে যাই বলুক, খেলোয়াড়েরা এটি খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। এটা খেলোয়াড়দের জন্যই ভালো। সবাই এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে, সেজন্য আমি খুবই খুশি। যতদূর দেখলাম, এখন পর্যন্ত ঢাকার, ঢাকার বাইরের ফলাফল আমার হাতে আসেনি। ঢাকায় প্রায় ৯৬ শতাংশ পাশ করে গেছে। যে লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, সেটা পূরণ করতে পেরেছে। আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমি আশা করছি, সবাই এটা বুঝতে পারবে। আমার খেলোয়াড়েরা বুঝতে পেরেছে, তাতে আমি খুবই খুশি।’

হাবিবুল জানালেন, ‘যারা এবার পারেননি, কিন্তু আরেকবার দিতে ইচ্ছুক, প্রয়োজনে আরো কয়েকবার তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। দরকার হলে পাঁচবার পরীক্ষার সুযোগ দেব। গতবারও দিয়েছি। চার-পাঁচ জন পারেনি লেভেল ছুঁতে। তাদের রাখা হয়নি এবং সময় দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল তোমরা যখনই পারবে, পরদিনই দলে ঢুকে যাবে। গতবার এভাবে কিন্তু তিন-চার জন ঢুকেও গিয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি যে ভবিষ্যতের ক্রিকেটের জন্য আমরা একটা ব্র্যান্ড সেট করতে চাই। সেটার প্রথম শর্ত হলো ফিটনেস ও ফিল্ডিং সবার আগে।’